মঙ্গলবার, ১৮ Jun ২০১৯, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন

ধানের দাম ১১০০ টাকা মণের দাবিতে রাজশাহীতে এমপির বিক্ষোভ

ধানের দাম ১১০০ টাকা মণের দাবিতে রাজশাহীতে এমপির বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ধানের দাম মণ প্রতি কমপক্ষে ১১০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী-২ আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা। আজ রোববার সকালে ‘কৃষি বাঁচাও, কৃষক বাঁচাও’ শ্লোগানে ধানের দাম বৃদ্ধির দাবিতে রাজশাহী জেলা ও মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টি বিক্ষোভ-সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশেই প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা এমপি ফজলে হোসেন বাদশা।

তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে কৃষকের কমপক্ষে ৯ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়। তাই ধানের দাম ১ হাজার ১০০ টাকার নিচে রাখা যাবে না।

তিনি বলেন, দেশে একটা সময় দুর্ভিক্ষে মানুষ মারা যেত। প্রযুক্তির ব্যবহারে এখন কৃষির উন্নয়ন হয়েছে। এখন কৃষি মন্ত্রী বলেন, আমরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি। আমি বলি, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে মন্ত্রীর কোনো প্রয়োজন নেই। কৃষকরাই এই দেশকে খাদ্যে স্বয়ংম্পূর্ণ করতে পারে। কৃষক হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ফসল ফলায়, কিন্তু এর কৃতিত্ব তাদের দেয়া হয় না। আজকে দেশে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। মন্ত্রীরা বলেন, ক্ষেতমজুরের সংকটও নাকি উন্নয়নের মাপকাঠি। অথচ বুঝতে হবে আজকে কৃষির বেহাল দশা। কৃষক না খেয়ে মরছে। উন্নয়নের এসব ফাঁকা বুলি দিয়ে কোনো লাভ নেই।

রাজনীতিতে এখন ব্যবসায়ীদের অনুপ্রবেশ ঘটছে উল্লেখ করে বাদশা বলেন, রাজনীতিতে এখন এতো ব্যবসায়ী এসেছেন, তাদের মনোভাব শুধু খাদ্য আমদানির দিকে। খাদ্য আমদানি করা গেলে তারাই সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। তারা মনে করেন, খাদ্য আমদানি করা গেলে ব্যবসা হবে। তাই কৃষকের স্বার্থ দেখেন না। এ দেশে বড় বড় মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন হয়। কিন্তু কৃষকের ধান রাখার জন্য গুদাম নির্মাণ হয় না।

ফজলে হোসেন বাদশা এ সময় অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামালেরও সমালোচনা করেন বলেন, আমাদের অর্থমন্ত্রী কোনো ধরনের বিচার-বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই বলেছেন, বাংলাদেশ কানাডার মতো হয়ে গেছে। আমি বলি, কানাডা নয়, বাংলাদেশ আমেরিকার মতো হয়ে গেছে। সেখানেও পুঁজিবাদী, এখানেও পুঁজিবাদী।

ইউনিয়নে জরুরী ভিত্তিতে সরকারিভাবে ধান কেনা, কৃষকদের ধান বিক্রি নিশ্চিত, আগামী মৌসুমে কৃষকদের বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক, নতুন খাদ্যগুদাম নির্মাণ করে উৎপাদিত খাদ্যশষ্যের ১৫ ভাগ মজুত এবং গুদামে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৈরাত্ম বন্ধের দাবি জানানো হয়।
এর আগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- পার্টির জেলার সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক তোতা, মহানগরের সম্পাদকম-লীর সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, সাদরুল ইসলাম প্রমুখ।

রাজশাহীর সময় ডট কম -১৯ মে ২০১৯





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com