বুধবার, ২২ মে ২০১৯, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ষড়যন্ত্র হয় ভেতর থেকেই, প্রসঙ্গ রাবিতে ভিসি পদে সাময়িক শূণ্যতা নিয়ে মিথ্যাচার, কোর্ট নোটিশ অতঃপর… ফায়ার সার্ভিস উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট আন্তরিক; রাজশাহীতে ফায়ার ডিজি রাজশাহীর মোহনপুরে ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার নিম্ন মানের চাল কেনার অভিযোগে রাজশাহীতে গোডাউন সিলগালা রাজশাহীতে স্কুলছাত্রী বর্ষা আত্মহত্যার ঘটনায় ওসি প্রত্যাহার কর্ণেল পরিচয়ধারী প্রতারক চক্রের মূল হোতা মাহবুর গ্রেফতার, রিমান্ড শেষে কারাগারে বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে কৃষকদের এই দুরাবস্থা অবস্থা হতো না : মিনু ফুটবলকে বিদায় জানালেন জাভি হার্নান্দেজ অডিশনের জন্য অচেনা অভিনেতার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে হয়েছিল অদিতিকে রাজশাহী নগরীতে পুলিশের অভিযানে আটক -৩৯
ঈদ ঘিরে সক্রিয় জাল নোটের কারবারিরা

ঈদ ঘিরে সক্রিয় জাল নোটের কারবারিরা

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : রোজা ও ঈদ ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে টাকার জাল নোটের কারবারিরা। চলতি মাসেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ধরা পড়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যমানের জাল নোট।

এ ছাড়া গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে শুধু ব্যাংকিং চ্যানেলে ধরা পড়েছে চার হাজারের বেশি জাল নোট, যার মূল্যমান ৩৪ লাখ টাকার বেশি। সবচেয়ে বেশি জাল হচ্ছে এক হাজার টাকার নোট। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জাল নোট প্রতিরোধে এরই মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিভিন্ন উৎসবের আগে নোট জালকারী চক্রের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পায়। তাদের অপতৎপরতা প্রতিরোধে আসল ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসংবলিত ভিডিও চিত্র রমজান মাসজুড়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে ও রাস্তার মোড়ে কমপক্ষে এক ঘণ্টা করে প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গ্রাহকদের কাছ থেকে নোট গ্রহণ ও প্রদানকালে এবং এটিএমে টাকা ফিডিংয়ের আগে আবশ্যিকভাবে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন দ্বারা নোট পরীক্ষা করার কথাও বলা হয়েছে।’

প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার আগে বিভিন্ন মূল্যমানের নতুন টাকার নোট বাজারে ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবারও ঈদে ১৭ হাজার কোটি টাকার নোট বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়সহ সব শাখা কার্যালয় এবং ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ২৮টি শাখায় নতুন নোট বিনিময়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগামী ২২ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত নতুন নোট বিনিময়ের এ কার্যক্রম চলবে। এ ছাড়া ঈদের আগে মানুষের কেনাকাটা বাড়ে বলে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের পরিমাণও বাড়ে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন টাকা বাজারে এলেই জাল নোটের কারবারিদের অপতৎপরতা বেড়ে যায়। তারা বিভিন্নভাবে বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যেও সক্রিয় থাকে জাল নোটের কারবারিরা। এর কারণ বিভিন্ন সময় ধরা পড়লেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আইনের ফাঁকফোকরে বেরিয়ে যায় তারা।

তবে জানা গেছে, শপিং মল ও বিপণিবিতানে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন সরবরাহ নিয়ে এপ্রিলের শুরুতেই পুলিশ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় মেশিন সরবরাহের পাশাপাশি ঈদ বাজারে জাল নোটের বিস্তার রোধে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও অভিযান বাড়ানো। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বহিনীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্যোগে জাল নোট নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে অভিযান শুরু হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর থানার পূর্ব রসুলপুর এলাকা থেকে জাল নোট প্রস্তুতকারী তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪৬ লাখ টাকা মূল্যমানের জাল নোট। গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা রোজা ও ঈদ ঘিরে বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। এ ছাড়া গত ১৩ মে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যমানের জাল নোটসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে বিভিন্ন মূল্যমানের চার হাজার ৩১৯টি জাল নোট ধরা পড়েছে। এর মূল্যমান ৩৪ লাখ ৩২ হাজার ৮০০ টাকা। এর মধ্যে তিন হাজার ২৯টিই এক হাজার টাকা মূল্যমানের নোট। এ ছাড়া ৫০০ টাকা মূল্যমানের ৬৮৭টি এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের ৫০৩টি নোট রয়েছে।

অন্যদিকে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে জাল নোটের মামলা হয়েছে ৪৯টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৮টি। নিষ্পত্তির হার ৩৬ শতাংশ। গত বছর ১৮৮টি মামলার মধ্যে নিস্পত্তি হয়েছে মাত্র ৫০টি। নিষ্পত্তির হার প্রায় ২৬ শতাংশ। এর আগে ২০১৭ সালে ২৮৭টি, ২০১৬ সালে ৩৪৪টি, ২০১৫ সালে ৪১০টি এবং ২০১৪ সালে ৩৬৮টি মামলা হয়। সব মিলিয়ে ২০১৯ সালের মার্চ শেষে জাল নোটের অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৭০৪টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাক্ষীর অভাবে জাল নোট মামলার ৬০ শতাংশ আসামি খালাস পেয়ে যায়।

এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাল টাকা দেশের অর্থনীতির জন্য শুভ নয়। এটা আমাদের সার্বিক সমস্যা। এটা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে জাল নোটের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জাল নোটের কারবারিদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে জাল নোট ছড়ানোর প্রবণতা বাড়তে থাকে। এ জন্য জাল নোটের মামলাগুলো সংবেদনশীল হিসেবে দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দরকার। পাশাপাশি জাল নোটের মামলা থেকে আসামিরা যাতে জামিন নিয়ে বের হতে না পারে, সেদিকটিও নিশ্চিত হওয়া দরকার।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(ক) উপধারায় জাল নোট কারবারের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান ছিল। তবে ১৯৮৭ সালে এরশাদ শাসনামলে সে বিধান রহিত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা হয়। কিন্তু এ আইনে বিচার করতে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে বিচারকালে শুনানির নির্ধারিত দিনে প্রায় সময় সাক্ষী উপস্থিত না থাকায় মামলার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে পৃথক একটি আইন প্রণয়নের জন্য ২০১৫ সালের ৯ ডিসেম্বর জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধ সংক্রান্ত কমিটির সভায় ছয় সদস্যের একটি উপকমিটি করা হয়। এ উপকমিটি আইনের খসড়া প্রণয়ন ও চূড়ান্ত করে এরই মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠিয়েছে। এখন পর্যন্ত এসংক্রান্ত অগ্রগতি জানা যায়নি। তবে নতুন আইনটি পাস হলে এটি হবে দেশে জাল মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে প্রথম আইন।সূত্র:কালের কণ্ঠ।

জানা গেছে, আইনটি বাস্তবায়নে ‘জাতীয় এবং জেলা’ পর্যায়ে কমিটি থাকবে। কমিটির সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে আইনের আওতায় গঠন করা হবে ‘জাল মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সেল’। জাল নোট সংক্রান্ত খবর দেওয়া হলে পুরস্কার দেওয়া হবে সংবাদদাতাকে—এ বিধানও থাকছে নতুন আইনে। জাল মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ আইনের খসড়ায় অপরাধীদের জন্য পর পর তিন দফা শাস্তি আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। প্রথমবার অপরাধ করে শাস্তি ভোগ করে দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে শাস্তি হবে প্রথমবারের তুলনায় দ্বিগুণ। একই ব্যক্তি আবার এমন অপরাধ তৃতীয়বার করলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন সাজা হবে।

রাজশাহীর সময় ডট কম১৮ মে ২০১৯





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com