সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ০২:১৪ অপরাহ্ন

উৎকোচ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির শূন্যপদ বিক্রির গুঞ্জন: অভিযুক্ত রিজভী গং, ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা

উৎকোচ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির শূন্যপদ বিক্রির গুঞ্জন: অভিযুক্ত রিজভী গং, ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : এবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ পাইয়ে দেয়ার জন্য ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে দলটির একাধিক সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির শূন্যপদ পাইয়ে দিতে কমপক্ষে দশ জন নেতার কাছে উৎকোচ গ্রহণ করেছেন রিজভী আহমেদ, মওদুদ আহমেদ ও মির্জা আব্বাস চক্র।

দলটির একাধিক সূত্রের বরাতে তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। যদিও অভিযুক্ত তিন বিএনপি নেতা সরাসরি উৎকোচ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে দলের অন্য নেতারা বলছেন, দলের বিপর্যয়ের মুখে স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ বিক্রি হয়ে গেলে বিএনপি পুনরায় সাংগঠনিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

বিএনপির সংস্কারপন্থী একটি সূত্রের বরাতে জানা যায়, হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার ও তরিকুল ইসলামের মৃত্যুর পর স্থায়ী কমিটির তিনটি পদ খালি রয়েছে। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও উপযুক্ত নেতার সন্ধান না পাওয়ায় পদগুলো খালি রাখা হয়েছে। সেই তিনটি শূন্যপদে নিজের পছন্দের মানুষকে অর্থের বিনিময়ে অধিষ্ঠান করতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন চক্রের তিন নেতা। এরইমধ্যে প্রায় ১০ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এই চক্রটি। গুঞ্জন উঠেছে, এরইমধ্যে জনপ্রতি ৫০ লাখ টাকা করে মোট ৫ কোটি টাকা ১০ জনের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন রিজভী আহমেদরা। টাকাগুলো লন্ডনেও পাঠিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে অযোগ্য কিন্তু বিত্তবান নামমাত্র নেতাদের কাছ থেকে বড় অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ বিক্রির অভিযোগে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে নেতা-কর্মীদের মনে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রিজভী আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অর্থের বিনিময়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ বিক্রির অভিযোগটি পুরোপুরি সত্য নয়। বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এই দলকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে হয়। কর্মসূচির জন্য অর্থেরও প্রয়োজন হয়। এছাড়া স্থায়ী কমিটির অনেকগুলো পদ এখন খালি পড়ে আছে। সেখানে তো লোক বসাতে হবে। ম্যাডাম জেলে, তারেক স্যার লন্ডনে। বিএনপিকে এখন চালায় স্থায়ী কমিটি। আমরা দলের প্রয়োজনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাবদ বিত্তবান নেতাদের কাছ থেকে কিছু অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করেছি এটি সত্য। তাই বলে পদ বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে নয়। এগুলো সংস্কারপন্থী বিএনপি নেতাদের রটানো গুজব।

তিনি আরো বলেন, মির্জা আব্বাস ও মওদুদ সাহেবের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো। আমরা প্রায় দলের ভালো-মন্দ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করি। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে, আমরা নাকি চক্র বানিয়ে পদ বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছি। এগুলো প্রতিহিংসার রাজনীতি। বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে হলে তো নেতার প্রয়োজন আছে নাকি? পদ খালি রেখে লাভ কী? কমিটি পরিপূর্ণ হলে দল মাঠের রাজনীতিতে শক্তিশালী হবে। আসলে বিএনপির ভেতর কিছু কীট রয়েছে, যারা দলের ভালো চায় না। ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে কোটি কোটি টাকা কামানোর সময় তো এমন হইচই করেননি তারা! আজকে অল্প পরিমাণ টাকা দলের প্রয়োজনে সংগ্রহ করায় অনেকের গা-জ্বালা শুরু হয়েছে। বিষয়টি দলের জন্য শুভকর নয়।

বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমিও গুঞ্জন শুনেছি যে, অর্থের বিনিময়ে রিজভী, আব্বাস ও মওদুদ সাহেব পদ পাইয়ে দেয়ার নাম করে দশ জন নেতার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। যদি গুঞ্জন যদি সত্য হয় তবে এটি দলের ভাবমূর্তিতে আঘাত হানবে। পরীক্ষিত ও যোগ্য নেতাদের স্থায়ী কমিটিতে স্থান না দিলে আগামীতে বিএনপি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। সরষের ভেতর ভূত থাকলে তো বিপদ! নিজ ঘরে আগুন লাগিয়ে কেউ শান্তিতে থাকতে পারে না। অর্থের বিনিময়ে পদ বিক্রি করলে বিএনপির রাজনীতি আর ফেরিওয়ালার মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। স্থায়ী কমিটির পদ ওয়ার্ড কমিটির পদ নয় যে, যে-কেউ এখানে বসতে পারবে। অর্থ থাকলেই দুনিয়াতে সবকিছু করা সম্ভব নয়। এটি রিজভী আহমেদদের বুঝতে হবে। বিএনপির পদ বিক্রির করার জন্য নয়, ত্যাগ ও পরীক্ষা দিয়ে এটি অর্জন করতে হয়। সেটি হয়তো তারা ভুলে গিয়েছেন। সূত্র: বাংলা নিউজ ব্যাংক

রাজশাহীর সময় ডট কম – ০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com