শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৯, ০৮:২১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত মাইনাস – নতুন কৌশলে ঐক্যফ্রন্ট!

জামায়াত মাইনাস – নতুন কৌশলে ঐক্যফ্রন্ট!

ফাইল ফটো

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : এগিয়ে চলা বাংলাদেশকে থামিয়ে দিতে কৌশলের কোন শেষ নেই। একটার পর একটা কৌশল পরিবর্তিত হতে দেখছি প্রতিটি মুহূর্তে।

অনেকেই বলছেন এতোদিন যেমন-তেমন, ড. কামাল এই মুহূর্তে জামায়াত নিয়ে মোটামুটি ভাবে ঝেড়ে কাশলেন। তিনি বললেন, আমরা জামায়াতের সাথে রাজনীতি করিনি এবং করবোও না।

উল্লেখ্য যে, নির্বাচনের পূর্বে ড. কামাল বলেছিলেন, জামায়াতের নির্বাচনে অংশ নেবার ব্যবপারে তিনি জ্ঞাত ছিলেন না। তাকে জামায়াতের বিষয় বিএনপি গোপন করেছিলো।

আমার ধারনায় তিনি এবং তার সহযোগীগণ সমানে মিথ্যাচার করে চলেছেন। সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিলো, “আপনারা জামায়াত ছাড়া চলবেন কি না” উত্তরে ড. কামাল বললেন, “চলা যেতে পারে”।

একের পর এক প্রশ্নের জালে আটকে গিয়ে তিনি বললেন, জামায়াতকে বাদ দিয়ে চলা যেতে পারে।

একজন মানুষ যিনি রাজনীতিতে পরিবর্তনের জন্য মাঠে নেমেছেন বলে ঘোষণা দিচ্ছেন তিনি তার অনুসারীগণ সহ সমানে যে গোলকধাঁধাময় পরিবেশের সৃষ্টি করেছেন সেখানে নতুন করে কৌশল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখতে পাই।

মাত্র ২/৩ দিন আগে মির্জা ফখরুলের জামায়াত বিষয়ে অনেকটা একই রকম বিবৃতি এবং ২/৩ দিন পরে এসে ড. কামালের বিবৃতি এবং গার্মেন্টস শ্রমিকের রাস্তায় নেমে আসা অনেকটা একই সুতায় গাঁথা।

এটা তো নিশ্চিত যে, তারা যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের উপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করছেন, তারাই জামায়াতকে পরিত্যাগ বিষয়ে বেশি চাপ দিয়ে আসছেন।

‘শ্যাম রাখি না কূল রাখি’ এমন দোটানায় তাদের এই মুহূর্তে এমন বক্তব্য দেয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। মূলত জামায়াত পূর্বেও ফখরুল ইসলাম বা ড. কামালের সাথে ছিলো, আজও আছে। সম্ভবত আগামীতেও থাকবে। যদি সরাসরি নাও দেখতে পাওয়া যায়, কৌশলগত কারণে জামায়াত ছায়া সারথী হয়ে থাকবে। এর কোন বিকল্প নেই। তাদের হাতে আর কোন উপায় নেই।

জামায়াতকে বাদ দিয়ে পথ চলা মানেই পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে চলা। এই সাবকন্টিনেন্টে পাকিস্তান ছাড়া জামায়াত, বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের কোন অভিভাবক নেই। কিভাবে তারা অভিভাবক শূন্য হবে?

বিভ্রান্তিজনক মন্তব্য করে তারা গার্মেন্টস শ্রমিকের রাস্তায় নেমে আশাকে নিছক বেতন-কাঠামোর আন্দোলনে রুপান্তরিত করার একটা চেষ্টা মাত্র। অথবা জামায়াতকে ঝেড়ে ফেলার আংশিক ঘোষণা নিজেদের দায়মুক্তির সনদ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা।

অলরেডি গোয়েন্দা রিপোর্টে ইন্ধনের আভাস, পুলিশের তৃতীয় কোন শক্তির খোঁজকে তারা হালকা ভাবে দেখছে না। অন্যদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতি ও সুশাসনে অনড় অবস্থানের কারণে বিষয়টি তাদের নিকট মোটেও হালকা নয়। তারা এটাও অবগত যে, সরকার অলরেডি গার্মেন্টস শ্রমিকের আন্দোলনের কারণ এর জাল গুটিয়ে নিয়ে এসেছেন প্রায়।

কয়েকদিন আগে লিখেছিলাম, জনগণ রাস্তায় নেমে আন্দোলন নয়, কৌশল পরিবর্তিত হয়ে আঘাত আসবে অর্থনীতির উপরে। তার স্বপক্ষে যুক্তিও তুলে ধরেছিলাম। বিশেষ করে ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত বুদ্ধিজীবীগণ সরকারকে দুর্বল করণে ইকোনমিকে আঘাতকে সূত্র হিসাবে বিভিন্নভাবে উল্লেখ করছিলেন।তার পরপরেই গার্মেন্টস শ্রমিকদের রাস্তায় দেখতে পাই।

আমার ধারণায়, জামায়াতকে বিদায় এমন ঘোষণায় হয়তো নিজেরা নিজেদের দুর্বল স্থান চিহ্নিত করে দিচ্ছেন।

কি, কেন, কি জন্য সব উত্তর পাওয়া যাবে, হয়তো আর কিছুটা সময় পাওয়া যাবে। হয়তো তখনও শোনা যাবে, সরকার এখানেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সব কিছুই করছে। বাংলাদেশ প্রেস।

লেখক : কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, দুর্জয় বাংলা সাহিত্য ও সামাজিক ফাউন্ডেশন

রাজশাহীর সময় ডট কম –১৩  জানুয়ারী ২০১





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com