বুধবার, ১৯ Jun ২০১৯, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

বাড়িভাড়া বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় হচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো

বাড়িভাড়া বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় হচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : রাজধানী ঢাকাসহ দেশের শহরাঞ্চলে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় হচ্ছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো। বিদ্যমান আইনে এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ না থাকলেও ভাড়া অনুযায়ী হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করার ক্ষমতা রয়েছে।

আর সে ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে শহরাঞ্চলে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে মৌখিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের অন্য শহরগুলোতে প্রতি বছরের শুরুতেই বাড়িভাড়া বাড়ানো নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যৌক্তিক কোনো কারণ না থাকলেও বাড়িওয়ালারা বাড়িভাড়া বৃদ্ধি করেন। ভাড়াটিয়াদের মেনে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। একমাত্র উপায়- বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১ অনুযায়ী জেলা জজ আদালতের ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে অভিযোগ দাখিল করা। সে ক্ষেত্রে অভিযোগকারীকে আইনজীবী নিয়োগ করতে হয়। এসব কারণে ভুক্তভোগী ভাড়াটিয়ারা আইনের আশ্রয় নেয়া থেকে বিরত থাকেন।

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, কাঁঠালবাগান, গ্রিন রোড, ধানমণ্ডি, রামপুরা, সেগুনবাগিচা, বংশাল, গুলশান, বনানী, উত্তরা, আগারগাঁও, শ্যামলী, মগবাজার, মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগী ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছরই বাড়ির মালিকরা ভাড়া বাড়াচ্ছেন। জীবনযাত্রার খরচ বাড়ছে দাবি করে বছরের শুরু কিংবা শেষ নেই, যখন-তখন বাড়ানো হচ্ছে বাড়িভাড়া। বাড়তি ভাড়া না দিতে চাইলে দেয়া হয় বাড়ি ছাড়ার নোটিশ। এ সংক্রান্ত আইন প্রয়োগে জটিলতা এবং হেনস্তা হওয়ার ভয়ে নিরুপায় বাসিন্দারা বর্ধিত ভাড়া মেনে নেন অথবা বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণবিষয়ক সংগঠন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, গত ২৫ বছরে ঢাকায় বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ। অথচ একই সময়ে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ২০০ শতাংশ। ১৯৯০ সালে পাকা ভবনে দুই কক্ষের একটি বাসার ভাড়া ছিল গড়ে ২ হাজার ৯৪২ টাকা। ২০১৫ সালে সেই ভাড়া দাঁড়ায় ১৮ হাজার ১৫০ টাকা। আর এখন এ ভাড়া এসে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৩৪০ টাকায়। এর মধ্যে গত ১০ বছরে ভাড়া বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।

সমীক্ষা অনুযায়ী, ঢাকায় প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই ভাড়াটে, আর বাড়িওয়ালাদের ৮০ শতাংশই বাড়িভাড়ার আয় দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঢাকার বাড়িওয়ালাদের ২৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ ভাড়াটেদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

এ প্রসঙ্গে ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, ঢাকাসহ অন্যান্য শহরের ভাড়াটিয়ারা বাড়ির মালিকদের কাছে নির্যাতিত হচ্ছেন। জেলা জজ আদালতের ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও তা বর্তমান বাস্তবতায় জটিল। এ কারণে জনগণ এ সুবিধা নিতে যায় না। তিনি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে একটি কমিটির মাধ্যমে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি চালু করার। এটি করা হলে জনগণ সুবিধা পাবে। কমিটিতে ভাড়াটিয়া প্রতিনিধিও রাখতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফা যুগান্তরকে বলেন, জনগণের ভোগান্তি হয় এমন কিছু বর্তমান সরকার সহ্য করবে না। এ ব্যাপারের আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করব। আর সরকারের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করব।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, এ ব্যাপারে সরকারের কোনো নির্দেশনা থাকলে সেগুলো বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়া হবে।যুগান্তর।

রাজশাহীর সময় ডট কম –১৩  জানুয়ারী ২০১

 





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com