সোমবার, ২২ Jul ২০১৯, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে সময়ে শেষ হচ্ছে না ভারতীয় অনুদানের পাঁচ প্রকল্প

রাজশাহীতে সময়ে শেষ হচ্ছে না ভারতীয় অনুদানের পাঁচ প্রকল্প

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : রাজশাহীতে ভারতীয় অর্থানুকূলে বাস্তবায়নাধীন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ প্রত্নতত্ত্ব অবকাঠামোর উন্নতিসাধন ও সংরক্ষণ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কাজ চলছে ধীরগতিতে।

প্রায় ২১ কোটি ৯৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকার এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। এসব প্রকল্পের অনুকূলে এ পর্যন্ত এসেছে ১০ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অর্থ ছাড়ে বিলম্বের কারণে কাজের গতি কিছুটা কমেছে। তবে ভারতীয় হাইকমিশন সূত্র বলছে, অর্থ ছাড়ের সঙ্গে প্রকল্পগুলোর কাজের বাস্তব অগ্রগতিতে বড় গরমিল থাকায় মাঝে অতিরিক্ত অর্থ ছাড় বন্ধ করা হয়েছিল। কাজের বাস্তব অগ্রগতি দেখেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত অর্থ ছাড় করছে।
২০১৭ সালের ২৯ জানুয়ারি রাজশাহী মহানগরীর ৫টি প্রকল্পের জন্য ২১ কোটি ৯৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকার সমঝোতা চুক্তি সম্পাদিত হয় তৎকালীন ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহ মোহাম্মদ আমিনুল হকের মধ্যে। প্রকল্পগুলো হচ্ছে- নগরীতে জনবান্ধব পরিবেশ উন্নয়ন, পাঠাগার, মিলনায়তন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ, ফুটপাতের উন্নয়ন, জলাধার সংস্কার ও সংরক্ষণ এবং প্রত্ন-অবকাঠামো সংস্কার ও উন্নয়ন।

২০১৫ সালে শুরু হয়ে ২০১৭ সালের জুনে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। বিভিন্ন কারণে কাজে গতি আসেনি। ফলে কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৯ সালের ৩০ জুন করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরসিসিএল-আরই-এমসি (জয়েন্ট ভেঞ্চার)। ২০১৮ সালের ১১ জুলাই বিসিক শিল্পনগরী সপুরার পুকুরটির ৪০ মিটার সুরক্ষা দেয়াল ভেঙে পড়ে। ওই সময় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাজের মান নিশ্চিতের জন্য রাসিকের কাছে অনুরোধ করে।

রাসিক সূত্র জানিয়েছে, নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকা ও বিসিক শিল্পনগরী এলাকার দুটি বড় পুকুরের পাড় বাঁধানোসহ ১ হাজার ৪৩ দশমিক ৯৩ মিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্মাণ হয়েছে ৮৮০ মিটার। অগ্রগতি ৮৪ ভাগ। বাকি কাজ জুনের মধ্যে শেষ হবে।

অন্যদিকে ৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নগরীর ১৭ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ কর্মসূচির মধ্যে ১৪ দশমিক শূন্য ৫ কিলোমিটার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও অর্ধেক, কোথাও তারও কম কাজ হয়েছে। তবে কাগজ-কলমে দেখানো হয়েছে এই অগ্রগতি। ফুটপাত নির্মাণের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬টি প্রাচীন মঠ-মন্দির সংস্কার ও উন্নয়ন কর্মসূচির মধ্যে ৫টির কাজ শেষ হয়েছে।

অন্যদিকে প্রকল্পের বড় দুটি কাজের অন্যতম ১ হাজার ৭৯৯ বর্গমিটার আয়তনের পদ্মা লাইব্রেরি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৭৫ ভাগ। তবে এলাকাবাসী বলছেন, প্রকল্পের ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ শেষ করতে আরও এক বছর লাগবে।

অন্যদিকে রাজশাহী সাংস্কৃতিক সংঘের মিলনায়তন নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। তবে এই বড় কাজটিরই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। মিলনায়তন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এখনও অর্ধেক বাকি। বাকি কাজ সম্পন্ন হতে আরও সময় লাগবে বলে স্বীকার করেছেন রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী।

কাজের ধীরগতির বিষয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন প্রতিবেদনে সময়মতো অর্থ ছাড় না হওয়ার কথাই বলা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকের মতে, দ্রুত অর্থ ছাড় না হলে প্রকল্পগুলোর বাকি কাজ প্রাক্কলিত সময়ে শেষ হবে না।

প্রকল্পের ধীরগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল হক যুগান্তরকে আরও বলেন, পদ্ধতিগত কারণে অর্থ ছাড়ে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। কারণ ভারতে ডিসেম্বর থেকে অর্থ বছর শুরু হয়। তারপরও ঠিকাদাররা কাজ অব্যাহত রেখেছেন। সাংস্কৃতিক সংঘের মিলনায়তনের কাজটিতে মাঝে জমি জটিলতার কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও এখন সেটা কেটে গিয়ে প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতেই হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এ প্রকল্পটির অগ্রগতি শতকরা ২৫ ভাগের কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী।যুগান্তর।

রাজশাহীর সময় ডট কম –১৩  জানুয়ারী ২০১





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com