সোমবার, ১৭ Jun ২০১৯, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন

আন্দোলনে ব্যর্থরা নির্বাচনে জয়ী হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী

আন্দোলনে ব্যর্থরা নির্বাচনে জয়ী হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : বিএনপির প্রত্যেকটি আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে এবং জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে- এমন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘যারা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়, তারা নির্বাচনে কখনই জিততে পারে না।’ বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় শেখ হাসিনা নির্বাচনে বিএনপির পরাজয়ের জন্য মনোনয়ন বাণিজ্য, যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন না দেয়া, নিষিদ্ধ জামায়াত নেতাদের মনোনয়ন দেয়া, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে জ্বালাও-পোড়াও করে মানুষ পুড়িয়ে হত্যাসহ বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
এদিকে দুপুরের মধ্যে পরিপূর্ণ হয়ে যায় অনুষ্ঠানস্থল। স্থান সংকুলান না হওয়ায় মিলনায়তনের সামনে রাস্তায়, খামারবাড়ি এলাকা ও সংসদ ভবনের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী তিনটা সাত মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়ে মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। এরপর বিকাল সাড়ে চারটায় তিনি তার বক্তব্য দেয়া শুরু করেন।

সভায় সূচনা বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট-বিএনপি ভরাডুবির নানা কারণ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্যে দেশের আর্থ-সামাজিক খাতে বর্তমান সরকারের নানা দিক উল্লেখ করে বলেন, আগামী ৫টি বছর আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা। দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিতে আমাদের এই কঠিন পরীক্ষা পাড়ি দিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

‘বিএনপি কেন নির্বাচনে হেরেছে সেটা তাদের নিজেদেরও ভাবা উচিত- মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তারা (বিএনপি) ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে তাণ্ডব চালিয়েছে। অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। আগুন দিয়ে তারা প্রায় ৫শ’র মতো মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। মা-বাবা দেখেছে তার চোখের সামনে তার ছেলে পুড়ে মারা যাচ্ছে। সন্তান দেখছে তার চোখের সামনে মা-বাবা পুড়ে মারা যাচ্ছে। ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে কেউ বাদ যায়নি। এতকিছুর পরও তারা (বিএনপি) কী করে আশা করতে পারে জনগণ তাদের ভোট দেবে?

শেখ হাসিনা বলেন, আরেকদিকে এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে বিএনপির নেত্রী কারাগারে বন্দি। তার পুত্রকে বানিয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সে (তারেক রহমান) হল দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলার আসামি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড মামলারও সাজাপ্রাপ্ত আসামি।

মানি লন্ডারিং মামলা- যেখানে এফবিআই এসে সাক্ষী দিয়ে গেছে সেই মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি- যে বিদেশে পালিয়ে আছে। তিনি বলেন, বিএনপির কি এমন কোনো নেতা নেই যাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বানাতে পারে?

কিন্তু তারা তা না করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বানাল একটা সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে। বিএনপির এসব তৎপরতার কারণে নির্বাচনে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, জনগণ এটা মেনে নেইনি বলেই ভোট দেয়নি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ থেকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বাংলা ভাই সৃষ্টি করেছে এই বিএনপি। দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং, দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি, গ্রেনেট হামলাও করেছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা- সেখান থেকে আমি কোনোরকমে বেঁচে গেছি। সেদিন আইভি রহমানসহ ২২ জন নেতাকর্মীকে হারাতে হয়েছে। গ্রেনেড হামলা করে শাহ এএসএম কিবরিয়া, আহসানউল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করে। তাদের পরিকল্পনাই ছিল আমাদের হত্যা করা। এভাবে সারা দেশে তারা তাণ্ডব চালিয়েছে। তাদের দুঃশাসনের ফলে আসে ইমার্জেন্সি (জরুরি অবস্থা)। সে সময় মানুষের ওপর আরও অত্যাচার শুরু হয়। তিনি বলেন, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ কখনই কোনো অত্যাচার, নির্যাতন মেনে নেয়নি। জাতির পিতা তার ৭ মার্চের ভাষণে বলেছিলেন- ‘কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ দাবায়ে রাখতে পারেনি।

২০০৮-এর নির্বাচনে জনগণ আমাদের সমর্থন দিয়েছিল- উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ব্যাপক হারে সে নির্বাচনে ভোট পড়ে। মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয় দেশ সেবা করার জন্য। আমরা জনগণের ভোট নিয়েই দেশ সেবা করি।

২০১৮ সালের নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ভোট না দেয়ার আরও কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, ২০১৩ সালের মার্চ মাস থেকে তারা অগ্নিসন্ত্রস, জ্বালাও-পোড়াও, রাস্তাঘাট নষ্ট করা, মানুষ হত্যা করা এবং নির্বাচন ঠেকানোর নামে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের আহতের মতো কর্মকাণ্ড তারা পরিচালনা করে। সে সময় প্রায় ৫৮২টি স্কুল পুড়িয়ে দেয়া হয়। সে সময় সরকারি অফিস-আদালত পুড়িয়ে দেয়া, এমনকি কোর্টের দু’জন বিচারককে বোমা মেরে হত্যা করা হয়েছে। আহত করেছে কয়েকজনকে। আইনজীবীকে হত্যা করেছে। কিনা করেছিল তারা! নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা ২০১৩, ২০১৪ কিন্তু সফল হতে পারেনি। কারণ বাংলাদেশের জনগণ তা রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। জনগণ আমাদের পক্ষে ছিল।

সেই নির্বাচনে আবারও (২য় বারের মতো) আমরা সরকার গঠন করি। নির্বাচন ঠেকাতে না পেরে ২০১৫ সালে সরকার উৎখাতে আন্দোলনে নামে তারা (বিএনপি)। আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারল। এই আগুন দিয়ে হত্যাকারীদের মানুষ কখনও মেনে নিতে পারে না। সে সময় জনগণই তাদের প্রতিরোধ করেছিল। যার ফলে তাদের সরকার উৎখাতের আন্দোলন, ধর্মঘট- যা আজ পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হয়নি, অব্যাহত আছে। তারা প্রত্যাহারের কথা বললেও জনগণ এটাকে ধর্তব্যেই নেইনি। তাদের সব আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে বিএনপির হেরে যাওয়ার আরেকটি কারণ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেখানে তো রীতিমতো মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে। একেকটা আসনে তিন-চার-পাঁচজন করে প্রার্থী। যে যত টাকা দিয়েছে তাকেই মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, সকালে একজন হয়তো এক পরিমাণে টাকা দিল তাকে দিয়ে দিল। কিছুক্ষণ পরে তার থেকে যে বেশি টাকা দিল তাকে দিয়ে দেয়া হল। দুপুর গড়াতেই বিকালে আরেকজন পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়ায় তাকে দিয়ে দেয়া হল। এই হল তাদের প্রার্থী বাছাইয়ের ব্যবসা, অকশন। প্রার্থী মনোনয়ন তারা অকশনে দিয়েছিল।

কয়েকটি মনোনয়ন কেনাবেচার দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, সিলেটে এনাম চৌধুরী সাহেব মনোনয়ন পেলেন না। যে টাকা দিতে পারল সে মনোনয়ন পেল। সে মনোনয়ন পেলে হয়তো জেতার একটা সম্ভাবনা ছিল। ধামরাই- আমরা তো ধরেই নিয়েছিলাম জিয়াউর রহমান খান মনোনয়ন পাবে এবং সে জিতবে। তাকে না দিয়ে যে বেশি টাকা দিতে পারল তাকে মনোনয়ন দেয়া হল। নারায়ণগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকারকে মনোনয়ন দেয়া হল না। যে টাকা সরবরাহ করতে পারল তাকে মনোনয়ন দিল। চট্টগ্রামে মোরশেদ খান তাকে মনোনয়ন দিল না। মনোনয়ন দিল যে ভালো টাকা দিতে পারল তাকে। তিনি বলেন, যখন আসন অকশনে দেয়া হয় তখন তারা নির্বাচনে জেতে কী করে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কয়েকজনের উদাহরণ আমি দিলাম তাদের অনেকেই আমার সঙ্গে দেখা করে তাদের দুঃখের কথা নিজেরাই বলে গেছেন। এদের মধ্যে একজন তো আমাদের দলে যোগদানও করেছে।

এছাড়া বিএনপির হারের আরও কারণ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উচ্চ আদালত থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে জামায়াতকে। এরপরও সেই দল থেকে ২৫ জনকে মনোনয়ন দিল বিএনপি। বাংলাদেশের জনগণ এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে। তারা যুদ্ধাপরাধীদের ভোট দেবে না, ভোট দিতে চায়ও না তারা দেয়ওনি।

জাতির পিতা এই দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছে। ২৯টি বছর দেশের মানুষের অনেক ভোগান্তি হয়েছে। অনেক কষ্ট এ দেশের মানুষ পেয়েছে। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। অর্থনৈতিক মুক্তি আমাদের মূল লক্ষ্য। মানুষের জীবনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নয়ন সমৃদ্ধ দেশ হবে সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন করেছি। এগিয়ে যাচ্ছি।

আগামী ৫ বছর আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা : আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছর আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা।

যে উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা শুরু করেছি, সেটা অব্যাহত রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’ তিনি বলেন, ‘জনগণ আমাদের ওপর আস্থা-বিশ্বাস রেখেছে। এই বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়ে বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব- এই বিশ্বাস আমাদের আছে।’

তিনি বলেন, ‘আজ জাতির পিতা আমাদের মাঝে নেই। তার আদর্শ বুকে নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা চাই, এ দেশের যে উন্নতি আমরা করেছি, সেটা যেন অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
সূচনা বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের বিজয় এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে। কাজেই আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা তার সততা-আদর্শের যে দৃষ্টান্ত দেশে-বিদেশে স্থাপন করেছেন, সেটার ফসল আমরা ঘরে তুলেছি ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে। কাদের বলেন, ‘আমরা এ বিজয় উদযাপন করতে চাই। আজকে এই বিজয়কে, এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে। কাজেই আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যাতে জনগণের এই বিজয়ের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র না হয় সেজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এ সময় আগামী ১৯ জানুয়ারি বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশ সফল করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ, মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ। এ সময় মঞ্চে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজশাহীর  সময়  ডট  কম ১১ জানুয়ারি, ২০১৯





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com