সোমবার, ১৭ Jun ২০১৯, ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন

বন্ধুর হাতে বন্ধুর খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাসিমের বন্ধু জসিম। দুই বন্ধুর একই নাম। চেনা-জানা সূত্রে তারা অনেক ঘনিষ্ট। তাই বন্ধু জসিমের ডাকে ছুটে গিয়ে জীবন দিলো সে। বন্ধুর জন্য জীবন উৎসর্গ নয়, নির্মামভাবে হত্যা করা হয় জসিমকে। শুধু মাত্রা, জসিমের রুটি-রুজির বাহনটি কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে। বলছিলাম রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে খুন হওয়ার জসিম উদ্দিন জয় ও হত্যাকারী বন্ধু জসিম উদ্দিনের কথা।

এর আগে নিখোঁজের তিনদিন পরে গত বুধবার রাতে গোদাগাড়ী থেকে অটোচালক জসিম উদ্দিন জয়ের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই হত্যাকান্ডে বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের শাহমখদুম থানার ডিসি হেমায়েত উল্লাহ আজ শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।

এসময় ডিসি জানান, অটোরিক্সা চালক জসিমকে কোন ভাবে বুঁঝিয়ে গোদাগাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় জসিমের অটোরিক্সায় ছিলো- সুমন আলী, রাজিব আলী ও বন্ধু জসিম উদ্দিনসহ একজন যাত্রী। পথে পাঁচ টাকা ভাড়া দিয়ে যাত্রী নেমে যায়।

রাস্তায় জমিসকে প্রথমে গাঁজা ও নেশা জাতীয় ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। গোদাগাড়ীর জালাহার এলাকার একটি নির্জন পুকুর পাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় অটোরিক্সা পাহারায় ছিলো বন্ধু রাজিব আলী।

ডিসি আরো জানায়, পুকুরপাড়ে হত্যাকারী জসিম, সুমন ও নিহত জসিম দাঁড়িয়ে ছিলো। তাদের মধ্যে কথা চলছিলো, এক পর্যায়ে সুমন পেছন থেকে গলায় ছুড়িকাঘাত করে ধাক্কা দেয়, এতে জসিম মাটিতে পড়ে যায়। পরে বন্ধু জসিম বুকের উপরে উঠে গলায় ছুড়ি চালায়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে দুই হাত ও পায়ের রগ কাটে হত্যাকারীরা। পরে সেই অটোরিক্সাটি বিক্রির জন্য জেলার নাটোরের একটি বাড়িতে রাখা হয়।

পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে অটোরিক্সাটি উদ্ধার করে। এর আগে জসিম উদ্দিন জয় নিখোঁজের খবরে বাবা আরফান আলী শাহমদুম থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার হত্যাকা-ের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়। পরে আসামি জসিমের মুরগির খামারে আগুন দেয় এলাকাবাসী। আরফান আলী বলেন, ‘আমি ছেলে (জয়) হত্যার বিচার চাই। শুনে ছিলাম আবার ছেলে বন্ধু ছিলো সে (হত্যাকারী)। বন্ধু এতো নিষ্ঠুুর হয়। একটা অটোর জন্য তার ছেলেকে খুন করলো।

রাজশাহীর সময় ডট কম১১ জানুয়ারী ২০১৯





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com