বুধবার, ২৭ মার্চ ২০১৯, ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন

সহকর্মীদের চোখে যেমন ছিলেন সৈয়দ আশরাফ

সহকর্মীদের চোখে যেমন ছিলেন সৈয়দ আশরাফ

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বাংলাদেশের মুজিবনগর অস্থায়ী সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

আশরাফুল ইসলাম ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সহপ্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যখন আব্দুল জলিল গ্রেফতার হন, তখন সৈয়দ আশরাফুল আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী।

বর্তমানে কিশোরগঞ্জ-১ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এর পূর্বে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা।

সৈয়দ আশরাফকে নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যেভাবে নির্লোভ ও সৎভাবে জীবনযাপন করেছেন, তা সচরাচর দেখা যায় না।

প্রিয় নেতার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে হানিফ বলেন, তিনি একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ ছিলেন। সাধাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত সৈয়দ আশরাফ ছিলেন নির্লোভ ও নিরহংকারী। নেত্রী ও দলের প্রতিও তিনি ছিলেন অবিচল।

আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে সৈয়দ আশরাফের ভূমিকা স্মরণ করে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে যখন গ্রেফতার করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় তখন সারা দেশে দলকে সুসংগঠিত করে তার মুক্তির পথ ত্বরান্বিত করেছিলেন সৈয়দ আশরাফ।

সৈয়দ আশরাফ যখন দলের সাধারণ সম্পাদক হন তখন ওই কমিটিতেই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি দীর্ঘদিন সৈয়দ আশরাফকে কাছ থেকে দেখারও সুযোগ পেয়েছেন।

দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সৈয়দ আশরাফের মতো ত্যাগী, বিচক্ষণ, দূরদর্শী ও সজ্জন রাজনীতিকের শূন্যতা ‘কখনোই পূরণ হওয়ার নয়’।

মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সৈয়দ আশরাফের অবদান স্মরণ করে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের বলেন, তার মতো সজ্জন, ত্যাগী, বিচক্ষণ ও দূরদর্শী রাজনীতিবিদের শূন্যতা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।

তিনি বলেন, উনার ব্যক্তিজীবনে কোনো চাওয়া-পাওয়া ছিল না। আওয়ামী লীগের ক্রান্তিকালে বিশেষ করে ওয়ান-ইলেভেন আশরাফ ভাইয়ের ভূমিকা ছিল অনন্য। বাংলাদেশের মানুষ এমন একজন রাজনীতিককে অনেক দিন মনে রাখবে।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার চোখে সৈয়দ আশরাফই বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে ‘বুদ্ধিদ্বীপ্ত’ ছিলেন।

সৈয়দ আশরাফের সততার প্রশংসা করে বলেন, সৈয়দ আশরাফ ছিলেন একজন সৃষ্টিশীল উন্নত চিন্তার রাজনীতিক। তিনি ছিলেন সততা ও নিষ্ঠার মূর্ত প্রতীক।

দিলীপ বড়ুয়া বলেন, তার রাজনীতির একটা কমিটমেন্ট ছিল, যে কারণে তিনি সত্য বলতে কখনও দ্বিধা করতেন না। তিনি ছিলেন রাজনৈতিক অঙ্গনের ইন্টেলেকচুয়াল জায়ান্ট। মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার ছিল অনবদ্য ভূমিকা।

সৈয়দ আশরাফকে পরিচ্ছন্ন রাজনীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মনে করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাস, আস্থা ও শ্রদ্ধা রেখে রাজনীতিকে কীভাবে এগিয়ে নিতে হয় সৈয়দ আশরাফ তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নেতাকর্মীদের প্রতি অন্তঃপ্রাণ ছিলেন তিনি। তার মধ্যে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ দেখিনি। ছোট-বড় সবাইকে সম্মানের চোখে দেখতেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সৈয়দ আশরাফ।

ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছু দিন ধরে তিনি ওই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চমবারের মতো কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন।

বৃহস্পতিবার নতুন এমপিদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত থাকতে না পেরে সময় চেয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন সৈয়দ আশরাফ। কিন্তু সহকর্মীদের শপথের দিনেই তিনি চলে যান না ফেরার দেশে। সূত্র: যুগান্তর।   

রাজশাহীর সময় ডট কম০৪ জানুয়ারী ২০১৯





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com