বুধবার, ২৭ মার্চ ২০১৯, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ইংরেজদের নীলকুঠি

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ইংরেজদের নীলকুঠি

ইংরেজদের নীলকুঠি। ছবি: সংগৃহীত

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: ইংরেজদের শোষণ-নির্যাতনের নানা স্মৃতি আজও রয়ে গেছে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায়। এর মধ্যে নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার বাগাতিপাড়া সদর, নওশেরা, পারকুঠি, নুরপুর কুঠি বাঁশবাড়ীয়া, চিথলিয়া অন্যতম।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাগাতিপাড়ার জঙ্গলাকীর্ণ অসতল নিরীহ বাসিন্দাদের দ্বারা পরিষ্কার করে নীলচাষের উপযোগী করে সে সময় তৎকালীন ইংরেজরা এ অঞ্চলে কুঠিবাড়ী স্থাপন করে। আর এসব অঞ্চলে চাষীদের জোরপূর্বক নীল চাষ করতে বাধ্য করা হতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে সে সময়ের স্থাপিত এ উপজেলার নীলকুঠিয়াল সাহেবদের অফিস-আদালত এবং নীল সংরক্ষণাগারসহ বহু স্থাপনা মাটির গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

কিছু কিছু স্থানে এই নীল কুঠি ও কলকুঠিগুলোর কিছু অংশ কালের সাক্ষী হয়ে এখনও দাঁড়িয়ে রয়েছে। তারই অংশবিশেষ কুঠিয়াল সাহেবদের ডাকবাংলো। আজও এসব এলাকায় রয়েছে অভিশপ্ত নীল চাষ-নীলকর আদায়কারী সাহেবদের নিয়ে আনা সাঁওতাল-বাগদীসহ বিভিন্ন আদিবাসী সেসব শ্রমিক গোষ্ঠী ও কুঠির ধ্বংসাবশেষ।

এসব নীলকর সাহেব রাজশাহী, ঝিনাইদহ, শিকারপুর, কেশবপপুর এবং নাটোরের বাগাতিপাড়া এলাকায় জোরপূর্বকভাবে নীল চাষ করাত। ইংরেজদের কাছ থেকে ভারত ও পূর্ববাংলা ভাগাভাগীতে রেনুইক অ্যান্ড কোং পূর্ব বাংলা এবং ভারতের সব কুঠিগুলোর মধ্যে নওশেরা তথা পূর্ববাংলার সব সম্পদ রফিক অ্যান্ড কোং’র নামে হয়ে যায়।

স্থানীয়দের মধ্যে জনশ্রুতি আছে, রফিক অ্যান্ড কোং তার দখলদারিত্ব পাওয়ার পর নাটোর চিনিকল স্থাপনের পরমুহূর্তেই রেনুইক কোং’র পক্ষ থেকে রফিক অ্যান্ড কোং বাংলাদেশ সুগার কর্পোরেশনকে নওশেরা কলকুঠি ও কুঠিয়ালদের সব সম্পত্তি দিয়েছেন। কালের সাক্ষী হিসেবে পড়ে রয়েছে তথাকথিত ইংরেজ সাহেবদের সেই ডাকবাংলো।

এক সময়ের ইংরেজ শাসকগোষ্ঠীর নির্মম নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন অভিশপ্ত নীল কুঠিরের ডাকবাংলো অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহাসিক এসব স্থাপনা।

সরেজমিন পরিদর্শন করে ঐতিহাসিক ডাকবাংলোটি সংরক্ষণ করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা রেজাউন্নবী জানান, নওশেরা গ্রামটিতে মূলত ব্রিটিশরা তাদের সুবিধার জন্য আদিবাসী, পাঠান এবং খানদের এনেছিল।

এছাড়াও এখানে ইংরেজদের আনা শ্রমিক গোষ্ঠী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বাগদী, সাঁওতালদের বংশধররা এ উপজেলায় বাস করে। সে সময় এখানকার চাষীদের দিয়ে জোরপূর্বক নীল চাষ করানো হতো। আর স্থাপনা গড়ে তুলেছিল নীলকুঠির, কুঠিবাড়ী, ডাকবাংলোসহ নানা স্থাপনা। এসব স্থাপনা ইতিহাসের স্বার্থেই সংরক্ষণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। সূত্র: যুগান্তর।

রাজশাহীর সময় ডট কম০৪ জানুয়ারী ২০১৯





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com