সোমবার, ২২ Jul ২০১৯, ০৩:১১ পূর্বাহ্ন

অর্থ বিনিয়োগের ব্যাপারে সন্ধান করবে সরকার

অর্থ বিনিয়োগের ব্যাপারে সন্ধান করবে সরকার

রাজশাহীর সময় ডেস্কসঞ্চয়পত্র খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের ব্যাপারে সন্ধান করবে সরকার। অনুমান করা হচ্ছে- এ খাতে অপ্রদর্শিত অর্থও বিনিয়োগ হচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে আয়কর সনদ (টিআইএন) ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)।

টিআইএন সনদ লিংক করতে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। পাশাপাশি এনআইডি লিংক করতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি)। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সরকারের ক্যাশ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে নেয়া হয়েছে এসব সিদ্ধান্ত। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

ওই বৈঠকে উপস্থিত অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, মূলত সঞ্চয়পত্র খাতে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ বন্ধ করতে এসব উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কারণ গত কয়েক বছরে অস্বাভাবিক হারে সঞ্চয়পত্র খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে। ফলে এসব বিনিয়োগকারীকে শনাক্ত, তাদের আয় বিশ্লেষণ ও কালো টাকার কোনো উৎস আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তা করা হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ও বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক এমকে মুজেরি যুগান্তরকে বলেন, সঞ্চয়পত্রে মুনাফা অন্যান্য বিনিয়োগের চেয়ে বেশি থাকায় সাধারণ ও ছোট বিনিয়োগকারীরা এদিকে ঝুঁকছে বেশি।

ছোট বিনিয়োগকারীদের অপ্রদর্শিত আয় থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। বড় বা বেশি বিনিয়োগকারীদের থাকতে পারে। তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হতে পারে। এক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দিতে হবে।

এক্ষেত্রে এনআইডি কার্ড বা টিআইএন সার্টিফিকেট দিয়ে এটি কিভাবে সন্ধান করবে তা জানি না। তবে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের টিআইএন সনদ নেই। এতে বিনিয়োগকারীদের বিড়ম্বনা হতে পারে। সবদিক বিবেচনা করে এ খাতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
জানা গেছে, সরকারের ঋণ ও নগদ অর্থ প্রবাহের গতিবিধি নিয়ে সম্প্রতি অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে সরকারের নগদ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সঞ্চয়পত্র খাতে অধিক বিনিয়োগের বিষয়টি উঠে আসে। বৈঠকে আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, ঋণ ব্যবস্থাপনার মূল সমস্যা হচ্ছে জাতীয় সঞ্চয়পত্র। কেননা আমরা জানি না, আজকে কত সঞ্চয়পত্র বিক্রি হবে কিংবা কতজন আজকে তার কেনা সঞ্চয়পত্র বিক্রি করবেন। সরকারি খাত থেকে অর্থের জোগান নিলেও এ ক্ষেত্রে ঋণ নেয়ার বিষয়টি সরকারের নয়, ক্রেতার ওপর নির্ভরশীল। ওই বৈঠকে তিনি জাতীয় সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করতে এনআইডি ও টিআইএন সার্টিফিকেট ডাটাবেজে লিংক করতে নির্দেশ দেন।

এদিকে সঞ্চয়পত্র অধিদফতরের মহাপরিচালক সামছুর নাহার বেগম বলেন, সঞ্চয়পত্র খাতে এনআইডি নম্বর যোগ করতে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি টিআইএন অন্তর্ভুক্ত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। শিগগিরই এনবিআরের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি চুক্তি করা হবে।

জানা গেছে, সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে সঞ্চয়পত্র। যে কারণে সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনায় এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বৈঠকে সঞ্চয়পত্র খাতে বিনিয়োগের কোনো উৎস চিহ্নিত করা বা যাচাই-বাছাই করার কোনো সুযোগ নেই। ফলে এ খাতে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ হচ্ছে কিনা সেটি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এনবিআরের পক্ষ থেকে ওই বৈঠকে বলা হয়, সঞ্চয়পত্রের ডাটাবেজ তৈরি হচ্ছে, এটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এর সঙ্গে টিআইএন লিংক করতে পারলে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ হচ্ছে কিনা সেটি শনাক্ত করা যাবে।

জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-অক্টোবর) পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র স্কিম থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ১৩ হাজার ৪১২ কোটি টাকা। এটি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৫১ শতাংশ। বিগত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাত থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করছে অস্বাভাবিক হারে সঞ্চয়পত্র বিক্রির তিনটি কারণ রয়েছে। প্রথম হচ্ছে- ব্যাংকগুলোতে মেয়াদি আমানতের বিপরীতে প্রদেয় সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। ব্যাংকিং খাতে তারল্য উদ্বৃত্তের কারণে সুদের হার কমেছে। দ্বিতীয় কারণ- শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশের অভাব। যে কারণে সঞ্চয়কারীরা বিনিয়োগের উত্তম বিকল্প হিসেবে আকর্ষণীয় ও ঝুঁকিমুক্ত সঞ্চয় স্কিমকেই বেছে নিচ্ছেন। সর্বশেষ কারণ হিসেবে বিদ্যমান করনীতিতে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে কর রেয়াত সুবিধাকে উল্লেখ করা হয়। এ তিন কারণে বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক ও পুঁজিবাজার ছেড়ে সঞ্চয়পত্রমুখী হচ্ছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সরকার সঞ্চয়পত্রের সুদ হার সবচেয়ে বেশি নির্ধারণ করেছে। মূলত সমাজের পেনশন হোল্ডার, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে এখান থেকে সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ সুদ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এই সুবিধা আদৌ প্রকৃত জনগোষ্ঠী পাচ্ছে কিনা তা শনাক্ত করা হবে। কারণ এ খাতে কর্পোরেট বিনিয়োগ বেড়ে গেছে, যা সরকারের কাম্য নয়।সূত্র:যুগান্তর।

রাজশাহীর সময় ডট কম –০৪ জানুয়ারী ২০১





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com