সোমবার, ২২ Jul ২০১৯, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন

বিশেষজ্ঞের মতামত: বিভ্রান্তি ও অতীত অপকর্মের কারণে বিএনপি-জামায়াত জোটের মহাবিপর্যয়

বিশেষজ্ঞের মতামত: বিভ্রান্তি ও অতীত অপকর্মের কারণে বিএনপি-জামায়াত জোটের মহাবিপর্যয়

নিউজ ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবিতে খোদ হতাশায় পড়েছেন জোটটির বিভিন্ন দলের নেতারা। জনগণের অপ্রত্যাশিত প্রত্যাখ্যানের পেছনে অতীত অপকর্ম, দুর্নীতির বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে কাজ করেছে বলে মনে করছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ঐক্যফ্রন্টের সকল দলগুলোকে শুধুমাত্র বিএনপি-জামায়াতের অতীত অপশাসন, সীমাহীন লুটপাট এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে বলেও ক্ষোভের সাথেই মন্তব্য করেছেন জোটটির একাধিক নেতা। ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে ঐক্যফ্রন্টের মহাবিপর্যয়ে এই বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

এদিকে আনন্দবাজার পত্রিকার বিশ্লেষণকে সঠিক এবং সময়োপযোগী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এ আরাফাত। তার মতে, বিএনপি-জামায়াত দেশবাসী হিংসা, সন্ত্রাস, দুর্নীতির কালিমা ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। যার কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত ও ঐক্যফ্রন্টকে এমন শোচনীয় পরাজয়ের সম্মুখীন হতে হয়েছে। এই নির্বাচনকে আমরা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বদেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে গণমানুষের ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিরোধও বলতে পারি।

অধ্যাপক এ আরাফাত বলেন, পত্রিকাটির লেখা বিশ্লেষণ করে আমার মনে হয়েছে-বাংলাদেশের এই ভোট-প্লাবনে এবার আর কোনও রাজনৈতিক দল দাঁড়াতেই পারেনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের মহাজোটের সামনে। ভোটকেন্দ্রে ঘটে গেছে নীরব বিপ্লব। মূলত ক্ষমতাসীন সরকারের উন্নয়ন, একাধিক মেগাপ্রজেক্টের চলমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকা, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে সমর্থ হওয়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃতি অর্জন করার মত এমন অসংখ্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হতে পেরেছে আওয়ামী লীগ। অথচ আওয়ামী লীগের এমন সফলতা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো ছাড়া কোন অর্জন নেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের। নির্বাচনের পূর্বেই বিএনপি-জামায়াত জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলো। বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচন পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী বিশৃঙ্খলা, অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ দেখেই পরবর্তী সরকার নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলো দেশের মানুষ। মানুষ জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। যার কারণেই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে বাংলাদেশকে স্বপ্নের জায়গায় নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

তিনি মনে করেন, বিএনপি-জামায়াত ও ঐক্যফ্রন্ট বাংলাদেশের মানুষ এই ক’মাসে বিভ্রান্তি এবং মিথ্যাচার ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। ড. কামাল একবার বলেন জামায়াত থাকলে জোট হবে না, আবার সেই কামালই বিশেষ মহলের নির্দেশে জামায়াতের সাথে সংসার বেধেছেন। ঐক্যফ্রন্টের আলাদা ইশতেহার ঘোষণা ও ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর থেকে জোটটির নেতা এবং বিএনপি নেতাদের সামঞ্জস্যহীন কথাও বিভ্রান্ত করেছে জনগণকে। এছাড়া বিএনপির ওপেন মনোনয়ন বাণিজ্য, পরীক্ষিত নেতাদের উপেক্ষা করে অজনপ্রিয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া, নির্বাচনী প্রচারণার নামে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া, বিভিন্ন কমিটি গঠনের নামে অভ্যন্তরীণ লুটপাট, যুদ্ধাপরাধীদের বিভিন্ন সময়ে পৃষ্ঠপোষকতা করা, নির্বাচনের পর ২ জানুয়ারি তিনি জেল ভেঙে খালেদা জিয়াকে বের করে আনার মত আইন বিরোধী গর্জনটিও ভোটারদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। যার কারণেই বিএনপি-জামায়াত জোটের নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে। এটি আসলে তাদের জন্য চরম লজ্জাজনক। আমি মনে করি, ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের পদত্যাগ করে অবসর জীবন যাপন করা উচিত।সূত্র: বাংলা নিউজ পোষ্ট।

রাজশাহীর সময় ডট কম –০৩ জানুয়ারী ২০১





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com