বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০১৯, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নভঙ্গ বিএনপির: দুষবেন কাকে?

ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নভঙ্গ বিএনপির: দুষবেন কাকে?

নিউজ ডেস্ক: গত ৫০ বছর রাজনীতি করেও রাজনীতিবিদ হতে না পারাটা ড. কামালকে বেদনার্ত করে কি না তা বলা কঠিন। ড. কামাল বাংলাদেশের কোন নির্বাচনে কখনো জিততে পারেননি। সারাজীবন অনেক সম্মান পেলেও প্রয়োজনীয় ভোট পাননি তিনি। তিনি আসলে কখনো গণমানুষের নেতা হতে পারেননি। এ হচ্ছে ভোট না পাবার প্রধান কারণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ড. কামালের ছোঁয়ায় বিএনপি-জামায়াতের নেতারাও অভিশপ্ত হয়েছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। রাজনীতিতে গণমানুষের সমর্থন ও ভালোবাসা যে জরুরি, সেটি এবার হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে বিএনপি-জামায়াত তথা ঐক্যফ্রন্ট।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতিবিদ হওয়ার তৃষ্ণাটা রয়েই গেছে ড. কামালের। সেই আশায় বিএনপি-জামায়াত ও কিছু ছোট ছোট দলকে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গঠন করে রাজনীতির প্রেক্ষাপট পরিবর্তন করার বিষয়ে অনেক বড় বড় কথা বললেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন ড. কামাল। সারাজীবন গণতন্ত্রের কথা বললেও ড. কামাল কিন্তু প্রায় ৩০ বছর ধরে নিজেই তার দলের সর্বেসর্বা। এই হচ্ছে তার দল গণফোরামে গণতন্ত্রের নমুনা। অথচ তিনি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করে ফেলেছেন! কিন্তু বাস্তবতা উল্টো; এখানে কামাল হোসেন আনফিট! সেই আনফিট ড. কামালকে ত্রাতা এবং বিকল্প মেরুদণ্ড ভেবে পড়ে যাওয়া শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে চেয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিএনপি-জামায়াত। ড. কামালের পরিবর্তে নিজেরা ২০ দলীয় জোটের ব্যানারে নির্বাচন করলে অন্তত এই লজ্জায় পড়তে হতো না। সেই অর্থে বিএনপি-জামায়াতের বিশাল ক্ষতি করে দিলেন ড. কামাল। নিজের মতো বাতিল ব্যক্তি ও দলে পরিণত করলেন বিএনপি-জামায়াতকে। ড. কামালের ফলে ধ্বসে পড়া বিএনপি জোটকে রাজনীতিতে শক্তি নিয়ে ফেরাটা স্বপ্নেই সম্ভব। এখন তো মনে হচ্ছে, পাকিস্তানপন্থী বিএনপি-জামায়াত যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে থেকে মাইনাস করতে কৌশলে জোটের নামে প্রতিশোধের মিশনে নেমেছিলেন ড. কামাল। এটি যদি সত্যি হয় তবে ড. কামাল সেই মিশনে সফল হয়েছেন। আর রাজনৈতিকভাবে ড. কামাল, বিএনপি-জামায়াত পুনরায় দেউলিয়াত্বের প্রমাণ দিয়েছে।

কারো মতে, ড. কামাল হোসেন রাজনীতির অথবা লোভের ফাঁদে পড়েছেন এবং তিনি হেরে গেছেন! অবশেষে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে সত্যটা স্বীকার করলেও ফাঁদ কেটে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন বলে মনে হয় না। অথবা পারছেন না। ড. কামাল ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ২৬ ডিসেম্বর, প্রকাশিত হয়েছে ২৭ ডিসেম্বর। ড. কামাল তাকে ভুল বুঝিয়ে ফাঁদে ফেলার জন্য যাকে দায়ী করেছেন, সেই মির্জা ফখরুলকে পাশে বসিয়ে ২৭ ডিসেম্বরেই সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এই নির্বাচনে একটা জিনিস স্পষ্ট হয়েছে, দেশের মানুষ অন্তত দুর্নীতিবাজ, খাম্বা চোরদের কোনভাবেই সমর্থন দেবেন না। নিজের ভবিষ্যৎ সাজানো, কোটি কোটি টাকা বিদেশ পাচার করে দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা, রাজনীতির নামে জনপ্রতি ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া সেই বিএনপি-জামায়াত জোটকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। সেটি তাদের শোচনীয় পরাজয়ে প্রতীয়মান হয়েছে। গত দশটা বছর যে দল শুধু ক্ষমতায় গিয়ে দেশকে দুর্নীতি চ্যাম্পিয়ন করার স্বপ্ন দেখেছে, দেশকে পরনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে তৈরি করার পরিকল্পনা করেছিলো, অন্তত তাদের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। রাজনীতির অর্থ শুধু ক্ষমতার চেয়ারটা দখল করা নয়, বরং জনসেবা সেটি ভুলে গিয়েছিলো বিএনপি-জামায়াত। সেই ভুলের জন্য হয়ত আগামীতে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।সূত্র: বাংলা নিউজ পোষ্ট।

রাজশাহীর সময় ডট কম –০৩ জানুয়ারী ২০১





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com