মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৮:১৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
এই নির্বাচন বাংলাদেশকে রক্ষা করার নির্বাচন রাবিতে মিনু বিএনপি প্রার্থী মঈন খানের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা চালিয়েছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ টুঙ্গীপাড়া থেকে বৃহস্পতিবার ফেরার পথে ৭টি পথসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা নির্বাচনে সহিংসতা থেকে সবাইকে দূরে থাকার আহ্বান : মার্কিন রাষ্ট্রদূত জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত : বগি লাইনে তোলার চেষ্টা আইএসপিআরের নতুন পরিচালক আবদুল্লা ইবনে জায়েদ রাজশাহী নগরীতে বিএনপি’র অফিসে ভাঙচুর, নৌকায় অগ্নিসংযোগ নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনে ভোটে লড়ছেন ৩ প্রার্থী গোলাম মাওলা রনির ফেসবুক আইডি হ্যাক : থানায় জিডি
৩ বছরে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ১০ শতাংশে

৩ বছরে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ১০ শতাংশে

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী তিন বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি জোরদার হয়ে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে দাঁড়াবে। নিক্কাই ইন্টারন্যাশনালের সংবাদপত্র নিক্কাই এশিয়ান রিভিউয়ের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি আরও গতিশীল হয়ে আগামী তিন বছরে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ১০ শতাংশে। নিক্কাই স্টাফ রাইটার উজি করুনুমা এবং এডিটর অ্যাট লার্জ গোয়েন রবিনসন প্রধানমন্ত্রীর এ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশ ‘স্বল্পোন্নত দেশের’ তালিকা থেকে বেরিয়ে আসবে। তার প্রায় এক দশকের শাসনামলে অর্থনীতির ধারাবাহিক বিকাশে প্রবৃদ্ধি ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত হয়। গত জুনে সমাপ্ত অর্থবছরেও এই প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৭.৮৬%। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮.২৫% এবং এটি অব্যাহতভাবে বাড়বে।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে ২০২১ সাল নাগাদ দেশের প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ১০ শতাংশে। তিনি বলেন, গৃহীত নানা নীতি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশ এশিয়ার দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। এর একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে তার সরকার ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন তৈরি করেছে। এর মধ্যে বর্তমানে ১১টি জোন চালু হয়েছে, অবশিষ্ট ৭৯টিতে নির্মাণকাজ চলছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আগামী বছর যথাসম্ভব দ্রুত সময়ে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করা হবে। রাশিয়া ও ভারত বাংলাদেশের পশ্চিমাংশে দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে দুটি রিঅ্যাক্টর থাকবে এবং ২০২৪ সাল থেকে এ কেন্দ্রে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

দ্বিতীয় পরমাণু কেন্দ্রের জন্য ‘আমরা জমি খুঁজছি’ উল্লেখ করে তিনি আশা করেন, দক্ষিণাঞ্চলে দেশের একটি দরিদ্র এলাকায় এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। নির্বাচনের পর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জায়গা নির্ধারণ করে প্রস্তাব আহ্বানের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ‘সুসম্পর্কের’ কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা সেই প্রস্তাবই গ্রহণ করবে, যেটি এদেশের জন্য উপযুক্ত ও সুবিধাজনক।

মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার বিষয়টি একটি নির্বাচনী ইস্যু হতে পারে- এমন আশঙ্কা তিনি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রায় এক কোটি লোক প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় নেয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশিরা রোহিঙ্গাদের প্রতি একাত্মতা অনুভব করে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে শেখ হাসিনা বলেন, আমি খুব ভাগ্যবান যে, যখন আমি তাদের দুর্দশার কথা উপলব্ধির জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছি, প্রয়োজনে খাবার ভাগ করে খাওয়ার কথা বলেছি, তখন মানুষ আমাকে বিশ্বাস করেছে। দেশের মানুষ তা গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি। আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি, তাদের খাদ্য ও চিকিৎসা দিয়েছি। নারী ও শিশুদের জন্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছি।

উভয় দেশ মধ্য নভেম্বর থেকে শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু প্রথম গ্রুপটি ফিরে যেতে অস্বীকার করায় তা স্থগিত হয়ে যায়। নতুন সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পাশের একটি দ্বীপে কিছু শরণার্থীকে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথা শেখ হাসিনা নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে তিনি বন্যাপ্রবণ এলাকাটি কারাগারের মতো হয়ে যাবে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্বেগ প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি বলেন, এটি একটি সুন্দর দ্বীপ, এটি মানুষ গবাদিপশু চাষে ব্যবহার করে। তারা ওখানে ভালোভাবে থাকতে পারে। শিশুরা সেখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পাবে। আমরা সেখানে ত্রাণ বিতরণের জন্য গুদাম তৈরি করেছি। তিনি বলেন, আমরা এ মুহূর্তে এক লাখ শরণার্থীর সহায়তায় প্রস্তুত, কিন্তু আমরা সেখানে ১০ লাখ শরণার্থীর জন্য ব্যবস্থা করতে পারব।সূত্র:যুগান্তর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো শরণার্থীকে জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে না। কিন্তু তিনি শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ অন্য সব দেশের সহায়তা চান। তিনি বলেন, মিয়ানমার নিজ দেশে তাদের মানুষকে কীভাবে ফেরত নেবে, তা নির্ধারণের দায়িত্ব এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।

রাজশাহীর সময় ডট কম০৮ ডিসেম্বর ২০১৮





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com