মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:২৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দ্রুত কমে যাচ্ছে পৃথিবীর অক্সিজেন! কিন্তু কেন?

দ্রুত কমে যাচ্ছে পৃথিবীর অক্সিজেন! কিন্তু কেন?

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : অক্সিজেন ছাড়া এক মুহূর্ত বেঁচে থাকা সম্বভ নয়। সেই অক্সিজেনই দ্রুত উধাও হয়ে যাচ্ছে পৃথিবী থেকে। এত দ্রুত হারে অক্সিজেন কমছে যে বিজ্ঞানীরা রীতিমতো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অক্সিজেন মহাকাশে চলে যাওয়ায় ওজনে হালকা হয়ে পড়ছে পৃথিবী। নাসার বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যা ভাবা হয়েছিল, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল প্রায় সেভাবেই উত্তরোত্তর হালকা হয়ে এলেও, বাতাসের অক্সিজেন প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুত হারে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছে মহাকাশে।

১৯০৪ সালে স্যর জেমস জিনস তাঁর ‘দ্য ডাইনামিক্যাল থিয়োরি অফ গ্যাসেস’ বইটিতে লিখেছিলেন, প্রতিদিন বায়ুমণ্ডল হারিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী থেকে। জেমস জানিয়েছিলেন, এমন একদিন আসবে, যেদিন পৃথিবীর আর কোনো বায়ুমণ্ডল থাকবে না। ফলে, বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান উপকরণটি আর পাবে না এই নীলাভ গ্রহের জীবজগৎ। তবে সেটা হতে সময় লাগবে আরও অন্তত ১০০ কোটি বছর।

কিন্তু নাসার বিজ্ঞানীরা বলেছেন, বায়ুমণ্ডলের উত্তরোত্তর হালকা হয়ে যাওয়ার ঘটনাটা অত ধীরে ঘটছে না। তাদের মতে, ‘প্রতিদিন পৃথিবীর কয়েকশ টন বায়ুমণ্ডল আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে মহাকাশে। তার ফলে, খুব দ্রুত হারে তার ওজন হারিয়ে ফেলছে আমাদের এই গ্রহ। পৃথিবী দ্রুত হালকা হয়ে যাচ্ছে।’

দেখা গেছে, অক্সিজেনের মতো অত দ্রুত হারে পৃথিবীতে কমে যাচ্ছে না বাতাসের নাইট্রোজেন ও মিথেন। যা বেঁচে থাকার জন্য খুব কাজে লাগে অণুজীবদের। বিজ্ঞানীদের অনুমান, বহু কোটি বছর আগে এমন দশাই হয়েছিল আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী লাল গ্রহ মঙ্গলের। যতটা অক্সিজেন কমছে, তার বিপরীতে বেড়ে চলছে কার্বনডাই অক্সাইড। কমে যাচ্ছে গাছপালা-পাহাড় পর্বত।

কেন দ্রুত এই অক্সিজেন কমে যাচ্ছে, সেই কারণ অনুসন্ধানে  মঙ্গলবার রাতে নরওয়ের উত্তর উপকূল থেকে পাঠানো হয়েছে ‘ভিশন-২’ সাউন্ডিং রকেট। অভিনব রকেট। যাকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পাঠানোর কয়েক মুহূর্ত পরেই ফিরিয়ে আনা যাবে পৃথিবীতে। এই সময়ে নরওয়ের উত্তর উপকূলে আকছারই দেখা যায় অরোরা বোরিয়ালিস। মেরুজ্যোতি। কয়েক লহমায় তারই মধ্যে ঢুকে গিয়ে খবরাখবর নিয়ে ফিরে আসবে ওই সাউন্ডিং রকেট।

তবে শুধু রকেট পাঠিয়েই তাদের কাজ শেষ করেননি বিজ্ঞানীরা, মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে নাসার গর্ডার্ড স্পেস সেন্টারের একটি গবেষকদলও পৌঁছে গেছে নরওয়ের উত্তর উপকূলে। কী ভাবে বাতাসের অক্সিজেন, আমাদের শ্বাসের বাতাস মহাকাশে দ্রুত উধাও হয়ে যাচ্ছে, তার উপর নজর রাখতে। সূত্র:কালের কণ্ঠ।

নাসার ওই গবেষকদলের অন্যতম সদস্য, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাটমস্ফেরিক সায়েন্স বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিমাদ্রি সেনগুপ্ত বলেছেন, ‘অরোরা বোরিয়ালিসের সৌন্দর্য দেখতে আসিনি আমরা। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল হালকা হয়ে যাওয়া, শ্বাসের বাতাস অক্সিজেনের মহাকাশে দ্রুত চলে যাওয়ার পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে অরোরা বোরিয়ালিসের। আমরা সেটাই দেখতে এসেছি।’

রাজশাহীর সময় ডট কম০৭ ডিসেম্বর ২০১৮





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com