মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:১৬ পূর্বাহ্ন

বাঘায় শিক্ষক দ্বারা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ

বাঘায় শিক্ষক দ্বারা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ

বাঘা প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাঘায় শিক্ষক দ্বারা ছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, বাঘা উপজেলার কাদিলাদসখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রুহুল আমিন (৪৮) একই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রকে (১৩) মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা শেষে শিক্ষকের নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। তাকে পরীক্ষার নম্বর বেশি দেয়ার নাম করে বলাৎকার করার চেষ্টা করে।

এ সময় তার কাছ থেকে ছুটে নিজ বাড়িতে চলে আসে এবং ঘটনাটি তার বাড়িতে জানায়। এ বিষয়ে গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে একই স্কুলের সহপাঠি কয়েকজন বন্ধু ও অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষককে জানাতে যায় এবং ওই শিক্ষককের বিচার দাবি করে। উল্টো প্রধান শিক্ষকসহ স্কুলের অন্যান্ন শিক্ষকরা তাদের মারপিট করে এবং অভিভাবকদের লাঞ্চিত করে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তপ্ত হলে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। শিক্ষক রুহুল আমি ইতিপর্বে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষনের দায়ে জরিমানা দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

এ বিষয়ে শিক্ষক রুহুল আমিনের বক্তব্য নিতে গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানান তিনি এখন কথা বলতে পারবেননা।এরপর মোবাইলে বারবার ফোন দিলেও ফোন রিসিফ করেননি।

কালিদাসখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিন্দ্রনাথ প্রামানিক বলেন, এই বছর আমার প্রতিষ্ঠান থেকে টেষ্ট পরিক্ষায় ফলাফল খারাপ করার জন্য ৩৪জন ছাত্রছাত্রীকে এসএসসির ফর্মফিলাপ করতে দেওয়া হয়নি। সে জন্য অকৃতকার্য ছাত্রছাত্রী ও তাদের অবিভাবকবৃন্দ পানি ঘোলা করে মাছ শিকার করবার চেষ্টা করছে।

কালিদাসখালী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আক্কাছ আলী বলেন, স্কুলে কিছু ছাত্র ও অবিভাবকবুন্দ উত্তপ্ত পরিস্থিত সৃষ্টির উত্তপ্ত পেষ্টা করছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আগামী শনিবার বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মিটিং করে তদন্ত কমিটি গঠন পূর্বক ওই শিক্ষক যদি দোষী প্রমানিত হয়, তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

বাঘা থানার ওসি মহসীন আলী বলেন, কালিদাসখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে বিঙ্খলা হচ্ছে মর্মে, ফোন দেন প্রধান শিক্ষক। তাৎক্ষনিক সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়।

বাঘা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরিফুর রহমান বলেন, আমি রাজশাহীতে মিটিং-এ ছিলাম। তবে লোকমুখে ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে ইউএনও স্যারের দফÍরে একটি অভিযোগ দিয়েছে ছাত্রের অভিবাবক। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তি ব্যবস্থা নিব।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিন রেজা বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিব।

 

রাজশাহীর সময় ডট কম০৫ ডিসেম্বর ২০১৮





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com