সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:০২ অপরাহ্ন

পটুয়াখালীতে কুকুরে কামড়ানো গরুর মাংস বিক্রি; অসুস্থ ৫

পটুয়াখালীতে কুকুরে কামড়ানো গরুর মাংস বিক্রি; অসুস্থ ৫

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় কুকুরে কামড়ানো গরুর মাংস বাজারে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিক্রিত ওই গরুর মাংস খেয়ে উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের ১২ নম্বর ডিগ্রি এলাকায় আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ৫ জন নারী পুরুষ অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার অন্যান্যরাও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের ১২ নম্বর ডিগ্রি এলাকার বাজারে কুকুরে কামড়ানো গরুর প্রতি কেজি মাংস ৪০০ টাকা মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। ওই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড (১২ নম্বর ডিগ্রি ও গাব্বুনিয়া) আওয়ামী লীগের সভাপতি খলিল ফরাজী এই গরুর মাংস বিক্রি করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। তারপর সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সেই গরুর মাংস খাওয়া ৪-৫ জন নারী-পুরুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়ে গলাচিপা ও পটুয়াখালী পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই গরুর মাংস অন্যান্য যারা খেয়েছেন, তাদের মধ্যেও এখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারাও স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শ নিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১২ নম্বর ডিগ্রি এলাকার এক বাসিন্দা জানান, কুকুরে কামড়ানো গরুর মাংস খেয়ে আমার বাড়িতে ভাবী ও দাদী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জেনেশুনে কুকুরে কামড়ানো গরু জবাই করে খলিল ফরাজীর বাজারে বিক্রি করা ঠিক হয়নি।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড (১২ নম্বর ডিগ্রি ও গাব্বুনিয়া) ইউপি সদস্য জাকির হোসেন মৃধা বলেন, কুকুরে কামড়ানো গরুর মাংস খলিল ফরাজী বাজারে বিক্রি করছে। ওই গরুর মাংস খেয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

অভিযুক্ত ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি খলিল ফরাজী বলেন, গরু জবাই দেওয়ার সময় আমি ছিলাম। পরে শুনছি, ওই গরু নাকি কুকুরে কামড়াইছে। কিন্তু তা সত্য না। আমি গরুর মাংস বিক্রি করি নাই। ফেলাবুনিয়ার রতন খোনারের ছেলে জুরান খোনারের গরু, তিনি নিজেই জবাই দিয়া ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছে।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিলন কৃষ্ণ মিত্র বলেন, আমি এ বিষয়ে জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে দেখবো।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, অসুস্থ গরু জবাই দেওয়ার কোনো বিধান নেই। তবে মাংস রান্না করার কারণে খেলে সমস্যা নেই। কিন্তু যারা বাড়িতে মাংস কোটার (কাটা) সঙ্গে জড়িত, তাদের রিস্ক থাকে। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার কারণে সাইক্লোজিকালি সমস্যা। এ কারণে অসুস্থ হতে পারে।

রাজশাহীর সময় ডট কম ডিসেম্বর, ২০১৮





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com