মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:০৩ অপরাহ্ন

বাঘায় খেয়াঘাট ও বালুঘাট ইজারাদারের দ্বন্দ্ব পৃথক পৃথক অভিযোগ দায়ের

বাঘায় খেয়াঘাট ও বালুঘাট ইজারাদারের দ্বন্দ্ব পৃথক পৃথক অভিযোগ দায়ের

বাঘা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘায় খেয়াঘাট ও বালুঘাট ইজারাদারের মধ্যে খাজনা আদায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মাঝে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। এ দ্বন্দ্বে আজ রোববার দুপুরে উভয়পক্ষ পৃথক ভাবে থানা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, বাঘা উপজেলার কিশোরপুর খেয়া ঘাট থেকে নদী পারাপারের মাধ্যমে চকরাজাপুর ইউনিয়ন ও বাংলাবাজার সহ কুষ্টিয়া যাতায়াতের জন্য চলতি বছরের নভেম্বর মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ৫ লক্ষ ৬২ হাজার টাকায় খেয়াঘাট ইজারা নিয়েছেন জাতীয় পার্টির বাঘা উপজেলা শাখার সভাপতি মহিদুল ইসলাম।

অপর দিকে সেপ্টেম্বর মাসে ১ কোটি ২২ লক্ষ টাকায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ওই একই ঘাট (কিশোরপুর) বালু মহাল ইজারা নিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম মেরাজ।

জাপা নেতা মহিদুল ইসলাম রোববার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, তার লিজকৃত কিশোরপুর খেয়াঘাট সীমানায় জোর পুর্বক অনুপ্রবেশ করে একাধিক ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন-সহ নদী এবং স্থলপথ দখল করে লোকজন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে জেলা ছাত্রলীগ নেতা মেরাজুল ইসলাম মেরাজ। তিনি তার লিজকৃত সীমানা এলাকায় বালি উত্তোলন বন্ধ করতে বলেন। তারপরেও মেরাজ বালু উত্তোলন বন্ধ না করায় রোববার সকালে বিধি মোতাবেক তার নিকট খাজনা চেয়েছেন। বিষয়টিকে অন্যখাতে নেওয়ার জন্য এবং নিজের অপকর্ম ঢাকার জন্য এরপর মেরাজ অন্যায়ভাবে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ করেছেন। তাই ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে মেরাজ জানান, আমাদের বাড়ি কিশোরপুর গ্রামে হওয়ার সুবাদে গত ৫ বছর যাবৎ আমরা নিয়মের মাধ্যমে বালুরঘাট ইজারা নিয়ে থাকি। এতদিন এই ঘাটে কোন বাধা বিঘ্ন ছাড়ায় বালি উত্তোলন ব্যবসা করে আসছে আমার বড় ভাই-সহ এলাকার লোকজন। বর্তমানে উপজেলা সদরের বাসিন্দা ও জাপা নেতা মহিদুল ইসলাম খেয়াঘাট ইজারা নেয়ার মাধ্যমে আমার কাছে খাজনা চাই। আমি এ খাজনা দিতে রাজি না হলে তাঁর লোকজন আমার লোকদেরকে বালি উত্তোলনে বাধা দেয়। কিন্তু আইন মাফিক তিনি বাধা দিতে পারেন না। তাই বিষয়টি আমি থানা পুলিশকে অবগত করেছি।

তবে এলাকাবাসির অভিযোগ, নদী এবং খেয়াঘাট থেকে সামান্য দুরে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করায় প্রতিবছর নদী তীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি সহ ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। হুমকির সন্মুখিন হয়েছে শতশত একর জমিজমা । স্থানীয়দের অনেকই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বালুরঘাট ইজারা নিয়ে নিয়মনিতির তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালি একটি পরিবার প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন থেকে শুরু করে কেউ কোন পদক্ষেপ নেয়না। তাই বালু মহালের ইজারাদাররা আজ এলাকাবাসিকে জিম্মি করে যা খুশি তাই করছে। দ্রুত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে মারাত্বক হুমকির মুখে পড়বে চরাঞ্চলসহ নদী তিরবর্তি এলাকা।

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের ঘটনা শুনেছি। একপক্ষ আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত পূর্বক দুই পক্ষকে ডেকে এ বিষয়ে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাজশাহীর সময় ডট কম০২ ডিসেম্বর ২০১৮





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com