সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন

পাওয়া যাচ্ছে না ওষুধ-কিট, বেহাল উহান

পাওয়া যাচ্ছে না ওষুধ-কিট, বেহাল উহান

রিয়াজ উদ্দীন : চিকিৎসক নেই, ওষুধ নেই। রক্তপরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ‘কিট’ও নেই। এ ভাবেই চিনের অসংখ্য কোয়ারান্টাইনে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এ যেন শ্মশানের শান্তির মাঝে মৃত্যুর অপেক্ষা। নিজেদের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনালো উহানের ওয়াং পরিবার।

সপ্তাহদুয়েক আগে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ ফুটে উঠেছিল দুই ভাই জিয়াংগাই এবং জিয়াংইউ ওয়াং-এর শরীরে। কিন্তু, কিটের অভাবে রক্তপরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি, তাই ঠাঁই হয়নি কোনও হাসপাতালে। অগত্যা একটি হস্টেলে তাঁদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু, সেখানে না ছিলেন কোনও চিকিৎসক না চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থা। এক দিন সকালে উঠে জিয়াংগাই দেখেন, পাশে পড়ে রয়েছে দাদার প্রাণহীন দেহ। বিনা চিকিৎসাতেই চলে যান তিনি। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে একটি শকট ভ্যান পাঠানো হয়েছিল মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য। সৎকার করা গেলেও কোনও আচার পালনের অনুমতি দেয়নি প্রশাসন।

দাদার মৃত্যুর পর হস্টেলে থাকতে অস্বীকার করেন জিয়াংগাই। তখন এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে শুধু তাঁর স্ত্রী যেতেন তাঁকে খাবার দিতে, সম্প্রতি তিনিও আক্রান্ত হয়েছেন। তার পর থেকে কার্যত অনাহারে দিন কাটছে জিয়াংগাই-এর। দুর্দশার কথা জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে ইমেল করেন তাঁর মেয়ে। তারাই হাসপাতালের বন্দোবস্ত করে দেয়। হাসপাতাল থেকে ফোন করে জানানো হয়, ‘একটি বেড খালি আছে।’ এ বার বিপত্তি বাধে যানবাহন নিয়ে! রাস্তাঘাট তো সুনসান, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে কী ভাবে? ওয়াং পরিবারের বক্তব্য, তাঁদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, হাসপাতালে পৌঁছতে হবে নিজেদের দায়িত্বেই। শেষ পর্যন্ত একটি হুইলচেয়ারে বসিয়ে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার পথ নিয়ে যাওয়া হয় জিয়াংগাই-কে। এ ভাবেই হাসপাতালে পৌঁছন তিনি। সিটি স্ক্যান করার পর চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা একেবারেই ভালো নয়। জিয়াংগাই-এর একমাত্র কন্যার কাতর প্রশ্ন, ‘আমাদের কী দোষ? কেন এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হবে আমাদের?’ প্রশ্ন আছে কিন্তু জিনপিং-এর দেশে এর উত্তর দেওয়ার লোক নেই।

রাজশাহীর সময় ডট কম১৫ ফেব্রুয়ারী , ২০২০





© All rights reserved © 2020 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com