সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:১৪ অপরাহ্ন

বছরের শেষে একনেক অনুমোদন : নির্মিত হচ্ছে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়

বছরের শেষে একনেক অনুমোদন : নির্মিত হচ্ছে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : বাংলাদেশের অষ্টম প্রশাসনিক বিভাগ ময়মনসিংহে নির্মিত হতে যাচ্ছে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় যার নামকরণ করা হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে। নেত্রকোনা জেলা সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে প্রতিষ্ঠিত হবে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা হচ্ছে ৫০০ একর জমি।

নির্মাণ করা হবে ১০ তলাবিশিষ্ট তিনটি একাডেমিক ভবন, শিক্ষার্থীদের চারটি হল ও প্রশাসনিক ভবন। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্যও থাকবে আবাসনের ব্যবস্থা। গবেষণাধর্মী এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মানবিক, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, সামাজিক বিজ্ঞান ও বাণিজ্যের বিষয়গুলো পড়ানো হবে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিরও ব্যবস্থা করা হবে। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চারটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

পড়াশোনার পাশাপাশি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলার জন্যও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হবে। শুধু তাই নয় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্যও ব্যবস্থা রাখা হবে। এই নির্দেশনাগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দেয়া হয়েছে। হাওড় অঞ্চলের এই বিশ্ববিদ্যালয়কে হাওড়ের অর্থনীতি ও উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা করতেও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য ২ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় ২৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩০ হাজার ২৩৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ২৪ হাজার ৮৫৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো নিজেদের তহবিল থেকে ব্যয় করবে ৫৩৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। অবশিষ্ট ৪ হাজার ৮৪০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা প্রকল্প সহায়তা হিসেবে বিদেশি উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে।

একনেকে অনুমোদন পাওয়া

‘চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্প। এতে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৮০৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

‘নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ এবং অপসারণ ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্প। এর ব্যয় প্রায় ৩৪৬ কোটি টাকা।

‘বহদ্দারহাট বাড়ইপাড়া হতে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২৫৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

‘উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসসমূহের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প। এর ব্যয় ৭৪৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

‘বিনিয়োগ বোর্ড ভবন (বর্তমানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডা) ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৮ কোটি টাকা।

‘১১টি মডার্ণ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

‘চা বাগান কর্মীদের জন্য নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ প্রকল্প। এর ব্যয় ৬২ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

‘সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (১ম পর্যায়)’ প্রকল্প। এর ব্যয় ২ হাজার ৩০৯ কোটি ৭৯ লাখ

‘মাদারীপুরে সরকারি অফিস সমূহের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ কোটি টাকা।

‘নির্বাচিত ০৯টি সরকারি কলেজের উন্নয়ন’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

‘শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়, সদর গোপালগঞ্জ ও শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়, সূত্রাপুর, ঢাকা এর অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প। এতে ব্যয় হবে ৭১ কোটি টাকা।

‘চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে ১টি করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২২২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

‘শহীদ কামরুজ্জামান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, মান্দা’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

‘ভোলা টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

‘র‌্যাব ফোর্সেস এর অভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্প। এতে ব্যয় করা হবে প্রায় ১ হাজার ৩৪ কোটি টাকা।

‘জয়িতা ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বিনির্মাণ’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৬৩ কোটি টাকা।

‘ডিপিডিসি‘র আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৯৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

‘সোনাগাজী ৫০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৪৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

‘বীজ প্রত্যয়ন কার্যক্রম জোরদারকরণ’ প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

‘চট্টগ্রামের ৩৬টি পরিত্যাক্ত বাড়িতে সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারিদের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক হাজার ১৩২ কোটি টাকা।

‘আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ বিশেষ ধরনের পন্টুন স্থাপন’ প্রকল্প। এর ব্যয় প্রায় ১৬২ কোটি টাকা।
‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন’ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৮০ কোটি টাকা।

‘বাঙ্গালী-করতোয়া-ফুলজোর-হুড়াসাগর নদী সিস্টেম ড্রেজিং/পুনঃখনন ও তীর সংরক্ষণ’ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা।
‘৬৪টি জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পুনঃখনন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৭৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
‘বৃহত্তর নোয়াখালী (নোয়াখালী-ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলা) পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২’ প্রকল্প। এতে ব্যয় হবে ৭৪০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
‘বৃহত্তর রাজশাহী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ)’ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং
‘ইমারজেন্সি মাল্টি-সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপন্স’ প্রকল্প। এতে ব্যয় করা হবে ৩৩৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এ প্রকল্পটির জন্য বিশ্ব ব্যাংক অনুদান হিসেবে ৩৩৪ কোটি টাকা দেবে।

দেশের সর্বস্তরের মানুষের যাতে জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন হয় এজন্য তৃণমূল থেকে দেশের উন্নয়নের দিকে নজর দিয়েছে বর্তমান সরকার। দেশের মানুষ তাদের যোগ্য পথ প্রদর্শক নির্বাচন করায় এসব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে এবং এর ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।সূত্র: বাংলা আমার

রাজশাহীর সময় ডট কম ১০ নভেম্বর, ২০১৮





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com