বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন

নরসিংদীতে নেশার টাকা না পেয়ে বাবাকে পিটিয়ে হত্যা

নরসিংদীতে নেশার টাকা না পেয়ে বাবাকে পিটিয়ে হত্যা

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : নরসিংদীতে ছেলের রডের আঘাতে ফজলুল করিম (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে পৌর শহরের চৌয়ালা এলাকায় নেশার টাকা না পেয়ে তার ছেলেরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে নিহতের পরিবার জানিয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ছেলের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তার নাম মাসুম মিয়া।

অভিযুক্ত দুই ছেলে হচ্ছেন, বড় ছেলে মাসুম মিয়া (২২) ও মামুন মিয়া (১৮)। তারা দুজনেই নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলে নিহতের পরিবার নিশ্চিত করেছে।

নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফজলুল করিম পেশায় একজন মুদির দোকানদার। তিনি দুই মেয়ে  ও তিন ছেলের  জনক। মানজারুল ইসলাম নামের  এক  ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী।

গত ছয় বছর আগে ফজলুল করিমের প্রথম স্ত্রী রৌশন আরা মারা গেলে স্বপ্না আক্তার নামের  আরেকজনকে বিয়ে করেন তিনি। এরপর থেকেই বড় দুই ছেলে তাদেরকে সম্পদ রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার দাবিতে বাবা ফজলুল করিমকে একাধিকবার পিটিয়ে আহত করেন। কিন্তু ছেলেরা নেশাগ্রস্ত হওয়ায় তাদের সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন করে না দিয়ে দৈনিক খরচের টাকা হিসেবে প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে দিতেন ফজলুল করিম। এরপরও ছেলেরা  অত্যাচার করলে তিনি একাধিকবার পুলিশেও সোপর্দ করেছিলেন।

শুক্রবার ছোট মেয়ে মিনা আক্তারের প্রবাস ফেরত স্বামীকে আনতে ফজলুল করিম বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এসম বাড়ির সামনের সড়কে গেলে দুই ছেলে মাসুম ও মামুন তার কাছে টাকা দাবি করেন।

তিনি পরে টাকা দিতে না চাইলে ছেলেদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা বাধে। এসময় মামুন রড দিয়ে ফজলুল করিমকে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এসময় মাসুম পাশে দাড়িয়ে ছিলেন। ঘটনার পরপরই মামুন একটি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে গেলেও মাসুমকে স্থানীয়রা আটক করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং মাসুমকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়।

নিহতের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বলেন, ‘মেয়েদের জামাতা ও ছেলেদের ইচ্ছাতেই আমাকে বিয়ে করে আনা হয়েছে। আমার সঙ্গে তাদের সুসস্পর্ক ছিল। ছেলে মাসুম ও মামুন সবসময় সম্পদ লিখে দেওয়ার জন্য তাদের বাবাকে নির্যাতন করতেন। তিনি দুইবার তাদের পুলিশেও দেন। আবার তিনি নিজেই তাদের ছাড়িয়ে এনেছেন। তারপরও তিনি ছেলেদের প্রত্যেককে দৈনিক ২০০ টাকা করে খরচের জন্য দিতেন।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সৈয়দুজ্জামান বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের এক ছেলেকে আটক করা হয়েছে। ছেলেরা মূলত নেশাগ্রস্ত ছিল। তারা নেশার টাকা ও সম্পদ লিখে না দেওয়ার জন্যই বাবাকে হত্যা করেছে বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।   

রাজশাহীর সময় ডট কম০৯ নভেম্বর ২০১৮





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com