বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

একাদশ সংসদ নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর

একাদশ সংসদ নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর

রাজশাহীর সময় ডেস্ক :  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা এ তফসিল ঘোষণা করেন।

তফসিল ঘোষণার ভাষণে সিইসি জানান, সংসদ নির্বাচনের মনোনয়পত্র দাখিলের শেষ সময় ১৯ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২২ নভেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ নভেম্বর। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৩ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ৩০ নভেম্বর।

কেএম নূরুল হুদা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করছি।

দেশের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ এ কার্যক্রম, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় আপনাদের সহযোগিতা, সাহায্য ও সমর্থন কামনা করি। জাতির আকুল আগ্রহের এ জায়গায় সবাইকে নিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে সফল হবো, ইনশাআল্লাহ।

কেএম নূরুল হুদা বলেন, আমরা সংবিধান সমুন্নত রাখার জন্য শপথ নিয়েছি। সংবিধান মোতাবেক ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ সালের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, জাতীয় সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, আইন সংস্কারসহ মোট সাতটি করণীয় বিষয় স্থির করে ২০১৭ সালে আমরা একটি কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছিলাম।

‘সংলাপের মাধ্যমে ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নারী-নেত্রী সংগঠনের কাছে কর্ম-পরিকল্পনাটি তুলে ধরেছিলাম। তাদের পরামর্শ এবং সুপারিশ বিচার-বিশ্লেষণ করে করণীয় বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কতিপয় আইন ও বিধির উপর সংশোধন এবং সংসদীয় এলাকার সীমানা পুননির্ধারণ করে গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রের বাছাই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৭৫টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আবেদন নিস্পত্তি করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের সক্ষমতা অর্জন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। প্রথমবারের মতো নির্বাচনী এজেন্টদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পর্কে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়েছে।

জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণের শুরুতেই জাতির পিতাকে স্মরণ করেন হুদা বলেন, আমি স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। একইসঙ্গে সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছি অকুতোভয় যেসব বীর সন্তানদের স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, সম্ভ্রম বিসর্জন দিয়েছেন। স্মরণ করি ৫২’র ভাষাশহীদের, যাদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মায়ের ভাষা; অর্জিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

‘আন্দোলন, আত্মদান আর সংগ্রামের ফসল স্বাধীন সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশ। ভাষা আন্দোলনে আত্মদানের প্রত্যয় নিয়ে স্বাধিকার আন্দোলন। স্বাধিকার আন্দোলনের প্রেরণায় মুক্তি সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধের অর্জন ‘

দেশ উন্নত বিশ্ব অভিমুখে এগিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, লাল-সবুজ পতাকার এক খণ্ড বাংলাদেশ। চরম ক্ষুধা দারিদ্র্য, অবনতকর আর্থ-সামাজিক অবস্থান এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ভৌত অবকাঠামো নিয়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম। নবীন সেই দেশটি আজ উন্নতবিশ্ব অভিমুখ অভিযানে দীপ্ত পদে এগিয়ে চলছে।

কেএম নূরুল হুদা বলেন, এদেশের মানুষের প্রত্যাশা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে, গণতন্ত্রের মজবুত ভিত্তি স্থাপনের মাধ্যমে বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সারিতে দাঁড় করাতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনে উন্নত ও গণতন্ত্রকে সমান্তরাল পথ ধরে অগ্রসর হতে হবে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।সূত্র: বাংলা নিউজ পোস্ট

রাজশাহীর সময় ডট কম ০৯ নভেম্বর, ২০১৮





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com