বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় আইন ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠিত হবে

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় আইন ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠিত হবে

মন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে সারাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও সরকার এর কোনো দায় না নিয়ে বরং দেশে কোন ঘটনা ঘটে নাই বলে প্রচারণা চালিয়েছিল। এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচারণায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, জামায়াত বিএনপি এদেশে ক্ষমতায় থাকাকালীন দেশে একটি অশ্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সেই ঘটনার অবসান ঘটানো হয়েছে। তবে এখন সমাজের বিভিন্ন স্থানে ঘাপটি মেরে থাকা সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিরা বিভিন্ন জায়গায় সহিংস ঘটনা ঘটাচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস কাবের ভিআইপি লাউঞ্জে মানবাধিকার সংগঠন শারি’র আয়োজনে ‘জাতীয় নির্বাচন ২০১৮ ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় রাশেদ খান মেনন এসব কথা বলেন।

শারি’র নির্বাহী পরিচালক প্রিয় বালা বিশ্বাসের সভাপতিত্বে আলোচনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, জাতীয় প্রেস কাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, মানবাধিকারকর্মী ড. মেঘনা গুহ ঠাকুরতা, দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান, দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের যুগ্ম সম্পাদক বিভুরঞ্জন সরকার, বাংলাদেশ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি নির্মল রোজারিও।

দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংখ্যালঘু নির্যাতন সংক্রান্ত ধারনাপত্র উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল।

অনুষ্ঠানে দিনাজপুর এবং বরিশালে ২০০১ এবং ২০১৪ সালে সংঘটিত সংখ্যালঘু নির্যাতনের এলাকার থেকে নির্যাতনের শিকার রনজিত কুমার রায়, পুরেন দাস, সংবাদকর্মী কল্যাণ কুমার চন্দ, সংবাদকর্মী আজহারুল আজাদ জুয়েল এবং খালেদা আক্তার হেনা তাদের নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন। বরিশালের উজিরপুরের নির্যাতিত রনজিত কুমার রায় তার বক্তব্য রাখার সময় অঝোরে কেঁদে ফেলেন। এ সময় সমগ্র অনুষ্ঠানস্থলে পিনপতন নিরবতা নেমে আসে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, এখন পর্যন্ত দেশে জাতীয় নির্বাচনের সময় নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি। এটা নির্বাচনী কাজের সঙ্গে জড়িতদের ব্যর্থতা। সংখ্যালঘুদের হতাশ হলে চলবে না, নিজেদের দাবি আদায়ে নিজেদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে।

সুলতানা কামাল বলেন, আগামী নির্বাচনে কোনো সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিকে কেউ মনোনয়ন দিবেন না। কারণ, ওই সকল সাম্প্রদায়িক ব্যাক্তিরাই সাম্প্রদায়িকতা ছড়ায়। যদি দেওয়া হয়, তাহেলে তাকে প্ররোধ করার জন্য তিনি সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘু নির্যাতিত হলে প্রতিরোধে যা প্রয়োজন সেই ব্যবস্থাই গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠি ক্ষমতায় থাকায় তখনকার সংখ্যালঘু নির্যাতনের কোনো বিচার তারা করেনি। কিন্তু ২০১৪ সালে কি হলো। তখনতো স্বাধীনতার স্বপক্ষ দাবিদার শক্তি ক্ষমতায় তারা কেন সেদিনের নির্যাতনের ব্যাপারে কোনো বিচার আজ পর্যন্ত করল না।

তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে সকল দলের চরিত্রই এক। আর এজন্য আমরা হাল ছেড়ে দেব না। কারণ বঙ্গবন্ধুর আহবানে সাড়া দিয়ে দেশ স্বাধীন করতে অবদান রেখেছি। সেই অবদানের বলেই আগামী দিনেও সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিরোধে সচেষ্ট থাকব।

অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, নির্বাচন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের জন্য কোনো উত্সব নয়, বিপদের বার্তা নিয়ে আসে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে সংখ্যালঘুদেও উপর হামলার বিষয়ে তত্কালীন সরকারের ২৯জন মন্ত্রী সরাসরি জড়িত ছিলেন। এ ব্যাপারে একটি কমিশনও গঠিত হয়েছিল। কিন্তু কোনো অজ্ঞাত কারণে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।সূত্র:কালের কণ্ঠ।

তিনি বলেন, কোনো সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিকে কেউ মনোনয়ন দিলে সেই এলাকার সংখ্যালঘুরা তাকে ভোট দিবে না। আর এ ব্যাপারে যদি কোনো ঘটনা ঘটে সেই দায় দায়িত্ব ওই দলকেই নেত হবে।

রাজশাহীর সময় ডট কম০৯ নভেম্বর ২০১৮





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com