ঢাকা বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০২০
ইসলামের ইতিহাসে মহামারি
  • Rajshahir Somoy Desk
  • ২০২০-০৩-২৬ ১০:২৩:৫৫
ইসলামের ইতিহাসে মহামারি

ইসলামীক ডেস্ক চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস আজ মহামারির রূপ ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণে প্রায় ১৩ হাজার লোক নিহত হয়েছে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সারা পৃথিবীতে। ইসলামের ইতিহাসে এ ধরনের বহু মহামারির ঘটনা পাওয়া যায়। 

৬ষ্ঠ হিজরিতে মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় পারস্যের মাদায়েনে মহামারি রূপে দেখা দেয় প্লেগ। ১৮ হিজরিতে খলিফা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে সিরিয়ার আমওয়াস অঞ্চলে প্লেগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। 

৬৬ হিজরিতেও মহামারি দেখা দিয়েছে। মুগিরা বিন শুবা রাদিয়াল্লাহু আনহু কুফার গভর্নর থাকাকালে ৬৬ হিজরিতে মহামারির প্রাদুর্ভাব ঘটে। স্বয়ং মুগিরা বিন শুবা এতে আক্রান্ত হয়ে শাহাদাত বরণ করেন।

৫ম উমাইয়া খলিফা আব্দুল আজিজ বিন মারওয়ানের আমলে মিশরে মহামারি দেখা দেয়।

উমাইয়া শাসনামলে এত বেশি মহামারি হয়েছিল যে, মহামারি যেন লেগেই থাকত।

আব্বাসি শাসনামলে তুলনামূলক মহামারি হ্রাস পেয়েছিল।

এমনিভাবে ইসলামের অতীত ইতিহাসে অনেক মহামারির প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। সেসবের বিস্তারিত বর্ণনাও লিপিবদ্ধ রয়েছে। মহামারির সময়ে পূর্ববর্তী মুসলিম সমাজের জীবনযাপন কেমন ছিল ইতিহাসের কিতাবে তারও বর্ণনা পাওয়া যায়। 

৮৩৩ হিজরিতে মিসরে দেখা দিয়েছিল ভয়াবহ মহামারি। মিসরের আসকালানে বাস করতেন জগদ্বিখ্যাত হাদিস বিশারদ ইমাম ইবনু হাজার আসকালানি। মহামারিতে তার কন্যা মৃত্যুবরণ করেন। কন্যার বিয়োগব্যথায় তিনি মহামারির মর্যাদা ও মাহাত্ম্য নিয়ে সাড়ে চারশতাধিক পৃষ্ঠার একটি কালজয়ী গ্রন্থ রচনা করে ফেলেন। নাম ‘বাজলুল মাউন ফি ফাজলিত তাউন।’

ইবনু হাজার আসকালানি (রহ.) এ গ্রন্থে মহামারি সম্পর্কে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বেশ কিছু বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, ‘মহামারি হলো পাপের সাজা। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা পূর্ববর্তী অনেক উম্মতকে মহামারি দিয়ে শাস্তি দিয়েছেন। তার কিছু প্রভাব পৃথিবীতে থেকে গেছে। সেটাই কখনো কখনো আসে, আবার চলে যায়।’ কিছু বর্ণনামতে, মহামারি হলো মুমিনদের রহমত এবং শাহাদাত। কিন্তু কাফিরদের জন্য আজাব। (পৃ. ৭৮)

সুতরাং এ সময়ে আমাদের উচিত জাতিগতভাবে তওবা করা। আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। অশ্লীলতার কারণে মহামারি ব্যাপক আকার ধারণ করে। সমাজে বাধাহীনভাবে যখন নাফরমানি হয় তখন অনিবার্যভাবে আল্লাহর আজাব আসে। এখন আমাদের উচিত বেশ্যালয়গুলো ভেঙে ফেলা, গার্মেন্টস, অফিস, কল-কারখানায় নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশাকে বন্ধ করে দেওয়া ও মদ-জুয়ার আসরগুলো বন্ধ করে দেওয়া।

রাজশাহীর সময় ডট কম২৬  মার্চ , ২০২০

দেড় হাজার বছর আগেই যে সমস্ত শাস্তির কথা জানিয়েছে কুরআন
সংসারে বিচ্ছেদ : সন্তানের দায়িত্ব কে নেবে?
হজ প্রত্যাশীদের যে বার্তা দিল সৌদি আরব