শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন

গয়না বিক্রি করতে চাপ, শ্বশুরবাড়ির মারধরে হাসপাতালে গৃহবধূ

গয়না বিক্রি করতে চাপ, শ্বশুরবাড়ির মারধরে হাসপাতালে গৃহবধূ

গয়না বিক্রি করতে চাপ, শ্বশুরবাড়ির মারধরে হাসপাতালে গৃহবধূ

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : নিজের সোনার গয়না হাতছাড়া করতে না চাওয়ায় মর্মান্তিক পরিনতির শিকার হল এক গৃহবধূ। জানা গিয়েছে, শ্বশুর বাড়ির লোকের কথায় নিজের গয়না বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় মারধর করা হয় এক গৃহবধূকে। যার জেরে অসুস্থ হয়ে ওই গৃহবধূ বর্তমানে মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদহ জেলার ইংরেজবাজার থানার অন্তর্গত মিল্কির নরহরিপুর গ্রামে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্ত ওই মহিলার নাম, জুলি মণ্ডল (২২)। আরও জানা গিয়েছে, শ্বশুরবাড়ির লোকের কাছে মারধোরের ঘটনায় জুলিকে বাঁচাতে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকের হাতে প্রহত হন জুলি মণ্ডলের মা মনিকা মণ্ডল এবং তাঁর আরেক বোন রিয়া মণ্ডল।

সূত্রের খবর, গত সাতমাসে আগে মিল্কির নরহরিপুর গ্রামের বাসিন্দা পেশায় শ্রমিক মিঠুনের সঙ্গে বিয়ে হয় বছর বাইশের তরুণী জুলি মণ্ডলের। বিয়ের সময় পর্যাপ্ত জিনিসপত্র দেওয়া সত্ত্বেও শ্বশুরবাড়ির লোকের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে পন আদায়ের জন্য চাপ দেওয়া হত জুলিকে। পন নিয়ে এর আগেও বহুবার অশান্তি হয়েছে ওই দুই পরিবারের মধ্যে। তখনকার মতন সব মিটে গেলেও, ফের অশান্তি শুরু হয় ব্যবসার টাকা চাওয়া নিয়ে।

জানা গিয়েছে, ব্যবসার প্রয়োজনে টাকার দরকার বলে ওই গৃহবধূর বিয়েতে পাওয়া সমস্ত গয়না বিক্রি করে দিতে বলে তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। কিন্তু গয়না বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় আসল ঘটনার সূত্রপাত হয় সেখান থেকে। ইংরেজবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, গয়না বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় ওই অন্তঃসত্তা গৃহবধূকে স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে মারধোর করে। এই নিয়ে সেদিন দুই পরিবারের মধ্যে গ্রামে সালিশি সভাও বসে। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি বলে জানিয়েছেন ওই গৃহবধূর বাপের বাড়ির লোক।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, সালিশি সভা মিটে গেলে মঙ্গলবার রাতে আচমকা জুলির বাপের বাড়িতে আসেন তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। তারপরই জুলিকে ধরে মারধোর করে তাঁরা। জানা গিয়েছে, মেয়েকে স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকের হাতে মার খেতে দেখে জুলির মা ও বোন তাকে ঠেকাতে আসলে তাঁদেরও মারধোর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রের খবর, জুলি ও তাঁর বাড়ির লোকের চিৎকারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় তাঁদের প্রতিবেশীরা। এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শ্বশুরবাড়ি ছেঁড়ে পালায় অভিযুক্ত মিঠুন এবং তার বাড়ির লোকেরা। পরে প্রতিবেশীরা জুলিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। জানা গিয়েছে, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রথমে জুলিকে স্থানীয় মিল্কি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ওই গৃহবধূর অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় তাকে ভরতি করা হয় মালদহ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে। সেখানে বর্তমানে মাতৃমা বিভাগে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা চলছে তাঁর।

এদিকে জোর করে গয়না বিক্রি করতে চাওয়া এবং অন্তসত্তা গৃহবধূকে মারধোরের অভিযোগে ইংরেজবাজার থানায় ওই পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ইংরেজবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্ত ওই পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে শ্বশুরবাড়ির লোকের বিরুদ্ধে মারধোরের একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। যদিও মারধোরের পর থেকে জুলিদেবীর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোক বেপাত্তা বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। এদিকে গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখে অপরাধীদের উপযুক্ত সাজা দেওয়ার ব্যাপারে আক্রান্তের বাড়ির লোককে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা।

রাজশাহীর সময় ডট কম –১৬  অক্টোবর ২০১৯





© All rights reserved © 2019 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com