শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:২০ অপরাহ্ন

মেঘনায় কাঙ্ক্ষিত ইলিশের সন্ধান মিলছে না, হতাশ জেলেরা

মেঘনায় কাঙ্ক্ষিত ইলিশের সন্ধান মিলছে না, হতাশ জেলেরা

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : ভরা মৌসুমেও ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। বেশি ইলিশ পাওয়ার আশায় প্রতিদিন নদীতে গেলেও ফিরতে হচ্ছে খালি নৌকা নিয়ে। এতে করে জেলেরা নতুন করে জড়িয়ে পড়ছে ধারদেনায়। আর লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগর থেকে ইলিশ নদীতে আসতে দেরি হচ্ছে উল্লেখ জেলেদেরকে ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ মৎস্য বিভাগের।

মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, বছরের জুন মাস থেকে ইলিশ মৌসুম শুরু হলেও মূলত ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ে আগস্ট মাস থেকে। এ বছর আগস্টের ১৫ দিন কেটে গেলেও সেই কাঙ্ক্ষিত ইলিশের ঝাঁকের দেখা মেলেনি ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে। ইলিশ পাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত বর্ষা, নদীতে প্রচুর পানিসহ সব লক্ষণগুলো থাকলেও নেই শুধু ইলিশের ঝাঁক।

তারপরও প্রতিদিন আশায় বুক বেঁধে নদীতে ছুটছে হাজার হাজার জেলে নৌকা-ট্রলার। এসব জেলেদের অধিকাংশই ফিরে আসে সামান্য মাছ নিয়ে। যা দিয়ে ট্রলারের তেল খরচ উঠলেও অভাব-অনটনে থাকা জেলে পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসেনি। তাই ইলিশনির্ভর বিশাল এ জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা এখন নানামুখী সংকটে।

একজন জেলে বলেন, মাছ না থাকায় নদী এলাকার যত লোক আছে, সব বেকার হয়ে গেছে।

ইলিশ না পাওয়ায় টানা লোকসানের পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও। পুরোনো দাদন ফেরতের পরিবর্তে নতুন করে পুঁজি হারানোর শঙ্কায় তারা।

একজন মাছ ব্যবসায়ী বলেন, কিছু মাঝিরা দেনার ভয়ে পালিয়ে গিয়েছে। সমিতি থেকে টাকা নিয়েও অনেকে নৌকা নিয়েছিল। এখন টাকা দেয়ার ভয়ে পালিয়েছে।

আর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইলিশের মৌসুম কিছুটা বিলম্বে আসছে উল্লেখ করে শিগগিরই কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলবে এবং জেলেদের সংকট দূর হবে বলে মনে করেন জেলার মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্ষা যেহেতু দেরিতে আসছে সেহেতু মাছের মৌসুমও দেরিতে শুরু হবে।

জেলার প্রায় ২ লাখ জেলে গত মৌসুমে মেঘনা-তেতুলিয়া নদী থেকে ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ আহরণ করেছে।

রাজশাহীর সময় ডট কম১৬   আগস্ট ২০১৯





© All rights reserved © 2019 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com