রবিবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৯, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন

বিদেশির সংখ্যা বাড়ছে ঘরোয়া ফুটবলে!

বিদেশির সংখ্যা বাড়ছে ঘরোয়া ফুটবলে!

ক্রীড়া ডেস্ক : আসছে ফুটবল মৌসুমে বিদেশির সংখ্যা বাড়ছে! প্রত্যেক দলে গত মৌসুমে চার বিদেশি ফুটবলার রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ ছিল, এবার যা বেড়ে পাঁচে উন্নীত হচ্ছে।

এই মর্মে বাফুফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। ক্লাবগুলোর বরাবরে দেয়নি কোনো চিঠিও। তবে এরই মধ্যে কিছু ক্লাব নেমে পড়েছে পাঁচ বিদেশির মিশনে। লিগ কমিটির প্রধান ও বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদী বলেছেন ক্লাবগুলোর চাওয়ার কথা, ‘কিছু ক্লাব বিদেশির সংখ্যা পাঁচজন করার প্রস্তাব দিয়েছে, তবে খেলবে চারজন। তাদের যুক্তি হলো, চার বিদেশির মধ্যে একজন নিম্নমানের হয়ে গেলে কিংবা ইনজ্যুরড হলে পুরো বিনিয়োগটাই জলে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে তারা পঞ্চমজনকে ব্যবহার করতে পারে। এই ইস্যুতে আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের সঙ্গে একমত, তবে সিদ্ধান্ত হবে পর্ষদের সভায়।’ সদ্য সমাপ্ত লিগে এই ভোগান্তিতে পড়েছে লিগ চ্যাম্পিয়ন-রানার্স-আপরা। বসুন্ধরা কিংস পুরো ফিরতি লেগ খেলেছে তিন বিদেশি নিয়ে। রানার্স-আপ আবাহনীও মধ্যবর্তী দলবদলে এক ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার যোগ করেও খেলাতে পেরেছে মাত্র কয়েক ম্যাচ। ইনজুরিতে পড়ায় বাড়ি পাঠিয়ে দিতে হয়েছিল ওয়েলিংটনকে। তাই ক্লাবগুলো দাবি তুলেছে পাঁচ বিদেশি রেজিস্ট্রেশনের। চারজন একসঙ্গে খেলার সুযোগ পেলেও কোচের হাতে যেন একটি বিকল্প বিদেশি থাকে।

ফুটবলে বিদেশির সংখ্যা বাড়লেই দেশের অনেকে গেল গেল রব তোলেন। সালাম মুর্শেদী এতে নেতিবাচক কিছু দেখেন না, লিগ কমিটির প্রধানের যুক্তি, ‘এবার বিদেশির সংখ্যা ছিল চার, যা আগের চেয়ে বেশি। তাতে সামগ্রিক খেলার মান বেড়েছে, আমাদের খেলোয়াড়দের উন্নতি হয়েছে। গোলের হিসাবে দেখুন, দেশি দুই-তিনজন স্ট্রাইকার এবার অনেক গোল করেছে। এত বিদেশির মধ্যে খেলেও তারা নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে প্রতিনিয়ত। এটা তো খুব ইতিবাচক মনে হয় আমার কাছে।’ আবাহনীর নাবিব নেওয়াজ জীবনের এবার লিগে ১৭ গোল করার পাশাপাশি অ্যাসিস্ট আছে ছয়টি। বসুন্ধরা কিংসের এত বিদেশির ভিড়েও মতিন মিয়া নিজেকে আলাদা করে তুলেছেন ১১ গোল করে। সুতরাং দেশিদের বিকাশে বিদেশি কোনো অন্তরায় নয়, পায়ে-মাথায় ফুটবল থাকলে তার ঝলক দেখা যাবেই। বরং ভালো মানের বিদেশির পাশে থাকলে দেশি ফুটবলারের উন্নতিটা হয় দ্রুত। মতিন আর ব্রাজিলিয়ান মার্কোস ভিনিসিয়াসের বোঝপড়ায় যা স্পষ্ট হয়েছে। তাই সালাম মুর্শেদীও সবাইকে উৎসাহিত করছেন ভালো বিদেশি আনতে, ‘এবারের মৌসুমের বড় বৈশিষ্ট্য হলো খেলার গুণগত মান অনেক বেড়েছে। বিগত কয়েক বছরের সঙ্গে তুলনায় গেলে এবার অনেক ভালো মানের বিদেশি এসেছে আমাদের ঘরোয়া ফুটবলে। তাদের সঙ্গে খেলে আমাদের খেলোয়াড়দেরও উন্নতি হয়েছে। স্থানীয় ফুটবলারদের মান বাড়ায় জাতীয় দল সুফল পাচ্ছে, আবাহনী এএফসি কাপে ভালো করেছে।’সূত্র:কালের কণ্ঠ।

তাই তাঁর সময়ের মধ্যে হওয়া মৌসুমগুলোর মধ্যে এই একাদশ আসরের লিগকে তিনি সবচেয়ে আলাদা এবং আকর্ষণীয় মানেন। ক্লাবগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ‘আমার দায়িত্বকালীন সময়ে যতগুলো আসর হয়েছে তার মধ্যে এটাই সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং ফলপ্রসূ লিগ। যদিও খেলা চলেছে দীর্ঘ সময় ধরে, ক্লাবগুলো নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে সব ভেন্যুতে গিয়ে খেলেছে। এ জন্য ক্লাবগুলোর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। অভিনন্দন জানাই লিগ চ্যাম্পিয়ন নবাগত বসুন্ধরা কিংস ও ঐতিহ্যবাহী আবাহনীকে।’ তবে মৌসুম এখনো শেষ হয়নি। আগামী মাসে প্রিমিয়ার ও চ্যাম্পিয়নশিপ ক্লাবগুলোর অনূর্ধ্ব-১৮ দলের খেলার মধ্য দিয়েই শেষ হবে মৌসুম। তার আগেই ঈদের পর পর নতুন মৌসুমের সূচি চূড়ান্ত করে ফেলতে চায় পেশাদার লিগ কমিটি। ‘আগামী মৌসুমটি হবে ফুটবলের অনেক ব্যস্ততা এবং গৌরবের মৌসুম। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছর এটা। সুবাদে ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক সূচিতে ঠাসা থাকবে ফুটবল। আমি চাই এই মৌসুমে আমাদের ফুটবলও নতুন করে রাঙিয়ে উঠুক’—বলেছেন সালাম মুর্শেদী। আসন্ন ব্যস্ততম মৌসুমে ফুটবল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ওপর নির্ভর করে থাকতে চায় না। এবার ঢাকার বাইরে অনেক ভেন্যু হয়েছে, সেটা আরো বাড়ানোর পক্ষে সালাম মুর্শেদী। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছেও আটটি বিভাগে ফুটবলের জন্য আটটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামের দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘ফুটবল ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এখন সবার সহযোগিতা দরকার।’

রাজশাহীর সময় ডট কম ১০ আগস্ট ২০১৯





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com