মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন

চাঁদাবাজির অভিযোগ ঢাকতে দুর্গাপুরে মডেল কলেজের শিক্ষক কর্মচারিদের থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর

চাঁদাবাজির অভিযোগ ঢাকতে দুর্গাপুরে মডেল কলেজের শিক্ষক কর্মচারিদের থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী দুর্গাপুরের আলীপুর মডেল কলেজে চাঁদার টাকা নেননি বলে এবার জোরপূর্বক শিক্ষক কর্মচারিদের কাছে থেকে রেজুলেশনে স্বাক্ষর নিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম।

গতকাল বুধবার দুর্গাপুর আলীপুর মডেল কলেজে অধ্যাক্ষের ডাকা বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

কলেজ সুত্রে জানা গেছে, গত সোমবার দুর্গাপুরের আলীপুর মডেল কলেজে শিক্ষক কর্মচারিদের কাছে থেকে মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) বেতন বিলে স্বাক্ষর নিতে সভাপতি ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রায় কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরে তোপের মুখে পড়েন কলেজের সভাপতি ও অধ্যক্ষ।

ওই ঘটনা ঢাকতে ও মিথ্যা প্রমান করতে কলেজের অধ্যক্ষ বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম বুধবার বেলা ২টায় কলেজে বৈঠক ডাকেন। বৈঠকে কলেজের সকল শিক্ষক কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। তবে উপস্থিত ছিলেন না কলেজের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম।

বৈঠক চলাকালীণ কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম শিক্ষক-কর্মচারীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, চাঁদার টাকা তোলা হয়েছে। এতে বিভিন্ন সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এখন আপনাদের কাছে থেকে টাকা নেই নি, এটা প্রমান করতে হবে। এরপর কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম শিক্ষক-কর্মচারিদের কাছে কোন টাকা নেননি মর্মে বৈঠকে রেজুলেশনে জোরপূর্বক সকল শিক্ষক-কর্মচারিদের কাছে থেকে স্বাক্ষর নেন।

বৈঠক শেষে আলীপুর মডেল কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষ টাকা নিয়েছেন অথচ রেজুলেশনে মিথ্যা স্বাক্ষর দিতে হলো তিনি কোন টাকা নেন নি। শিক্ষকরা বলেন, স্বাক্ষর করা ছাড়া উপায় নাই। বৈঠকে অধ্যক্ষের ঘোষনা, যে স্বাক্ষর করবে না তার এমপিওর বিলে সভাপতি ও অধ্যক্ষ স্বাক্ষর করবে না। বিধায় জোরপূর্বক রেজুলেশনে স্বাক্ষর বাধ্য হলেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বলেন, কারো কাছে জোর করা হয় নি। বৈঠকে সবাই ইচ্ছাকৃত স্বাক্ষর করেছেন। শিক্ষক-কর্মচারিরা কোন চাঁদার টাকা দেননি বলে।

প্রসঙ্গত, দুর্গাপুর আলীপুর মডেল কলেজটি ২০০৪ সালে তৎকালীণ সাংসদ নাদিম মোস্তফার জোড় তদবিরে কলেজটি একাডেমিক স্বীকৃতি না পেলে এমপিও হয়। কলেজটি এমপিও হলেও একাডেমিক স্বীকৃতি না থাকায় আইনি জটিলতায় শিক্ষক-কর্মচারিরা বেতন উঠাতে পারছিলেন না। এরপর বিষয়টি আদালতে গড়ালে গত বছর উচ্চ আদালত থেকে এমপিও ভূক্তির দিন থেকেই শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন প্রদানের জন্য নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আপিল আবেদন করা হয়। তবে গত বছর পুনরায় আদালত রায় দেন শিক্ষক-কর্মচারিদের পক্ষে।

এরপর মন্ত্রণাণলয় থেকে বেতন ছাড়ের জন্য শুরু হয় রশি টানাটানি। পরে মান্থলি পেমেন্ট ওর্ডার (এমপিও) বেতন বিলে স্বাক্ষর নিতে প্রায় ৩৬জন শিক্ষক-কর্মচারিদের কাছে থেকে প্রায় কোটি টাকা চাঁদা উত্তোলন করেন কলেজটির বিএনপির নেতা অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম। কলেজটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের সহযোগিতায় এই টাকা আদায় করা হয়। 

রাজশাহীর সময় ডট কম১১ জুলাই ২০১৯





© All rights reserved © 2019 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com