মঙ্গলবার, ১৬ Jul ২০১৯, ০২:২৪ অপরাহ্ন

১৮টি পোষা কুকুরে কামড়ে-ছিঁড়ে খেল মালিককে

১৮টি পোষা কুকুরে কামড়ে-ছিঁড়ে খেল মালিককে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আস্ত লোকটা বেমালুম উধাও! এক জোড়া জুতো ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট নেই। জামা-কাপড়ের ছেঁড়া ফাটা টুকরোও নয়। বাড়িতে ছড়িয়ে শুধু কয়েকটা হাড়। সেগুলোও যেন চিবিয়ে রাখা হয়েছে। ব্যক্তির পোষ্য ১৮টা জাঁদরেল কুকুরের হাবভাবও একটু অন্যরকম। তাহলে কি যা ভাবা হচ্ছে তাই? এই কুকুরদের পেটেই গিয়েছেন তাদের মালিক? তদন্ত করতে গিয়ে শিউরে উঠেছিলেন পুলিশ কর্তারা।

সেই মা মাস থেকে নিখোঁজ ফ্রেডি ম্যাক। টেক্সাসের ভেনাসে নিজের বিরাট অ্যাপার্টমেন্টে একাই থাকতেন। সঙ্গী বলতে ছিল ওই ১৮টা কুকুর। হিংস্র সেই কুকুরদের ভয়ে আত্মীয়রাও ম্যাকের বাড়ির ছায়া মারাতেন না। তিনিই গিয়ে সকলের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করে আসতেন। দীর্ঘ একমাস ম্যাকের খোঁজ না পেয়ে পুলিশে খবর দিয়েছিলেন তাঁর আত্মীয়েরা। এর পরেই তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।

জনসন কাউন্টি শেরিফ অ্যাডাম কিং জানিয়েছেন, ভেনাস ও তার আশপাশের এলাকায় কোনও খোঁজ মেলেনি ম্যাকের। ৫৭ বছরের ম্যাক শান্ত স্বভাবের ছিলেন। বাড়িতে কুকুরদের সঙ্গে সময় কাটাতেই বেশি পছন্দ করতেন। সন্দেহটা দানা বাঁধে সেখান থেকেই। শেরিফের কথায়, ম্যাকের বাড়িতে ঢুকতে গেলেই বাধা দিচ্ছিল কুকুরগুলো। গোটা বাড়িটা ঘিরে রেখেছিল তারা। তাই প্রথমে ড্রোন উড়িয়ে ভিতরের হাল হকিকত নজর রাখছিলেন তাঁরা।

“ড্রোন নামিয়েই দেখি বাড়ির কয়েকটি জায়গায় পড়ে রয়েছে চেবানো, ভাঙাচোরা হাড়। ব্যাপারটা মোটামুটি আন্দাজ করে কুকুরদের প্রথমে বাড়ি থেকে সরানো হয়। পরে দেখি কুকুরদের মলে রয়েছে মানুষের চুল, জামার ছেঁড়া অংশ,” শেরিফ অ্যাডাম কিং বলেন, যে জামার অংশ মিলেছে, এমন জামা ম্যাকই পড়তেন। কুকুরের মল আর হাড়ের টুকরো ফরেন্সিক ল্যাবোরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।

তদন্তকারীদের কথায়, পোষা কুকুরের আক্রমণের কথা আগেও শোনা গিয়েছে। তবে ম্যাককে যে তার কুকুররাই খেয়েছে সেটা বিশ্বাস করতে প্রথমে অসুবিধা হয়েছিল। কারণ দেখা গেছে, হিংস্র প্রাণিরা সাধারণত মানুষের মাংস কামড়ে, ছিঁড়ে খায়, তবে জামা-কাপড় সমেত একজন মানুষকে হজম করে ফেলা, এমন ঘটনা এর আগে দেখা যায়নি।

পোষা প্রাণির তার মালিকের উপর আক্রমণের ডজন খানেক উদাহরণ রয়েছে ফরেন্সিক সায়েন্স জার্নালে । ২০১৭ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একটি আর্টিকলেও এমন প্রতিবেদন বেরিয়েছিল। ২০১৫ সালের একটি সমীক্ষা বলছে, অন্তত ৬০টি ঘটনায় দেখা গেছে, পোষা কুকুররা সাধরণত তার মালিকের নাক ও মুখেই প্রথম কামড় বসায়। হাত-পায়ের বদলে। চলতি বছরের প্রথমেই দক্ষিণ ক্যারোলিনায় এক তরুণীকে তাঁর দুই পোষা বক্সার রাস্তার মাঝেই জ্যান্ত ছিঁড়ে খেয়েছিল।

কাউন্টি শেরিফের কথায়, ম্যাকের ঘটনা এ যাবৎ সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঘটনাগুলির মধ্যে একটি। টেরান্ট কাউন্টি মেডিক্যাল টেস্টের অফিসও জানিয়েছে, হাড়ের টুকরো গুলির সঙ্গে ম্যাকের ডিএনএ ম্যাচ করেছে। বাকি পরীক্ষা এখনও চলছে।

রাজশাহীর সময় ডট কম১১জুলাই ২০১৯





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com