মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

২০ দলের পর এবার ভেঙ্গে যাচ্ছে এলডিপি!

২০ দলের পর এবার ভেঙ্গে যাচ্ছে এলডিপি!

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : বিএনপির তথা ঐক্যফ্রন্টের একাধিক সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্তের কারণে ২০ দল ত্যাগ করেছে ব্যারিস্টার আন্দালিব পার্থের দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি। এবার তারই ধারাবাহিকতায় ক্ষমতায় আসার লোভে পড়ে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের অতিরিক্ত জামায়াত প্রীতির কারণে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রভাবশালী তিন প্রেসিডিয়াম সদস্য পদত্যাগ করেছেন।

পদত্যাগকারীরা হলেন- আবদুল করিম আব্বাসী, মো. আবদুল্লাহ ও মো. আবদুল গণি। এ তিনজন একাধিকবার বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।সূত্র: বাংলা নিউজ ব্যাংক

পদত্যাগের কথা স্বীকার করে আবদুল করিম আব্বাসী বলেন, আমরা তিনজন এলডিপি থেকে পদত্যাগ করেছি। মঙ্গলবার (২৫জুন) এলডিপির সভাপতি বরাবর চিঠি দিয়ে সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। যে দলে কোনো মূল্যায়ন নেই সে দলে থেকে রাজনীতি করারও কোনো মানে হয় না।

কি কারণে এলডিপি ছাড়লেন, জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ করিম আব্বাসী বলেন, একটি দল ছাড়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকে। এলডিপি ছাড়ার মূল কারণ হচ্ছে, অলি’র অগণতান্ত্রিক মনোভাব, স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত। এছাড়া, এলডিপিতে আমরা ছিলাম সিনিয়র নেতা। আমরা একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। আমি নিজে তিনবার সংসদ সদস্য ছিলাম। ছিলাম সংসদের হুইপ। অথচ একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আমাদের কাউকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। তারা কয়েকজন মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করেছেন। এসবও দল ছাড়ার কারণ।

এলডিপি থেকে পদত্যাগ করা আবদুল গণি বলেন, তিনবার সংসদ সদস্য ছিলাম। অথচ অলি আহমদ আমাকে মূল্যায়ন করেননি। আমি এলডিপির হয়ে অনেক ত্যাগ শিকার করেছি। যেখানে কাজের, ত্যাগের কোন মূল্যায়ন হবে না সেখানে থাকার তো প্রশ্নেই আসে না। ভেবেছিলাম, একাদশ জাতীয় সংসদে আমাকে প্রার্থী করা হবে। সেখানেও আমাকে প্রার্থী করা হয়নি। মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে এলডিপি আমাদের সঙ্গে নোংরা খেলা খেলেছে। যা আমরা সহ্য করতে পারিনি।

কোনো দলে যোগদান করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা জাতীয়তাবাদের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। কিন্তু এখনই কোনো দলে যাচ্ছি না। তবে এ মতবাদে বিশ্বাসীদের নিয়ে শিগগিরই একটা ফোরাম তৈরি করা হবে।

অন্যদিকে, এলডিপির আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. আবদুল্লাহ দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতা সম্পর্কে বলেন, এলডিপিকে শক্তিশালী করতে সারা দেশে সাংগঠনিক কমিটি গঠন, নেতাকর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক চর্চা, সভা-সমাবেশের মতো কোনো কর্মসূচি নেই। শুধু ইফতার পার্টি আর সংবাদ সম্মেলনের মধ্যেই দলের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

দলের তিনজন হেভিওয়েট নেতার পদত্যাগ প্রসঙ্গে এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলের সিনিয়র তিনজন নেতা অনেকটাই নিষ্ক্রিয় ছিলেন। নির্বাচনে মনোনয়ন না পেয়ে তারা মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে পদত্যাগ করেছেন। অবশ্য তাদের পদত্যাগে এলডিপির কোন ক্ষতি হবে না। রাজনীতিতে অভিমানকারীদের কোন জায়গা নেই।

রাজশাহীর সময় ডট কম – ০ জুন, ২০১৯





© All rights reserved © 2019 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com