শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন

ইনিংসের উচ্চতা বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ

ইনিংসের উচ্চতা বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক : কার্ডিফে পরশুর প্রস্তুতি ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৩৮ রান করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। একই দিনে ব্রিস্টলে পাকিস্তানি বোলারদের পিটিয়ে জিতেছে আফগানিস্তান, যাদের ব্যাটিং লাইন আপ মোটেও বোলিংয়ের মতো শক্তিধর নয়। তবে এ তো নিছকই প্রস্তুতি ম্যাচ, বিশ্বকাপের আসল মঞ্চে যে ব্যাটসম্যানরা জড়তা কাটিয়ে আরো তোপ দাগবেন, তা নিশ্চিত। অতএব, সাবধান বাংলাদেশ দল!

সেই ঢাকা থেকে বিশ্বকাপ ভাবনায় একটা আলোচনাই বাংলাদেশ দলে—তিনশোর্ধ্ব ইনিংস তাড়া করা যাবে তো? কী কারণে যেন নিজের সবশেষ অধিনায়কত্ব পর্বে ম্যাচের চেয়ে টস কম জেতেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। তাতেই রান তাড়া করার প্রসঙ্গটি উঠছে বেশি বেশি। কারণ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে টসজয়ী অধিনায়ক যে নির্দ্বিধায় ব্যাটিং নেবেন, রানপ্রসবা উইকেটে আর কী চাইতে পারেন একজন অধিনায়ক!

তাই টস জিতলে মাশরাফিরও আগে ব্যাটিং নেওয়ার কথা। সে ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের জন্যও তো এবারের বিশ্বকাপের বেঞ্চমার্ক স্কোরটা গড়তে হবে তামিম ইকবালদের। একতরফা রান তাড়া করার ভিড়ে সে আলোচনাও শুরু হয়েছে ইদানীং। রান তাড়া করার চেয়ে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে তিন শ করার অভ্যাস বাংলাদেশের নেই। দেশের মাটিতে তো সে রকম পরিবেশও পান না ব্যাটসম্যানরা। ধীর গতির উইকেটে আড়াই শকেই জয়ের অব্যর্থ রানপাহাড় বানিয়ে দেন বোলাররা। তাই তিন শর বেশি রান করার পরিকল্পনাই সেভাবে হয় না টিম মিটিংয়ে।

কিন্তু বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মনে মনে বড় ইনিংসের ভাবনা উঁকি দিচ্ছে বাংলাদেশের টিম মিটিংয়ে। এত দিন বিশ্বকাপ আলোচনায় গুরুত্ব পেত প্রতিপক্ষকে কিভাবে তিন শর মধ্যে আটকে রাখা যায়। আয়ারল্যান্ড সফরের আত্মবিশ্বাস সে ভাবনাকে নিয়ে গেছে ৩২৫-৩৩০ রান দূরত্বে। মাশরাফি নিজেই পরশু রাতে বলছিলেন, ‘বিশ্বকাপে সফল হতে হলে আমাদের সোয়া তিন শ রান চেজ করার চিন্তা মাথায় রাখতে হবে। এখানে উইকেট ভালো, আউটফিল্ডও দারুণ।’ এমন পরিবেশে একজন সাকিব আল হাসান ছাড়া সে অর্থে বলে-কয়ে উইকেট নেওয়ার বোলার কোথায়? মাশরাফি যদি শুরুতে উইকেট দেন তো রক্ষা! বাকিদের প্রায় সবাই-ই রান আটকানোয় মনোযোগী। তাতে যদি মারমুখো হয়ে উইকেট দেন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যান। এ ফর্মুলায় অবশ্য সফলও বাংলাদেশ। অন্তত আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে সে রকমই দেখা গেছে।

তবে বিশ্বকাপে ব্যাটসম্যানদের জন্য রানের দেয়ালটা আরেকটু উঁচু করে দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আপনি আগে বা পরে ব্যাটিং করেন, ৩২৫-৩৩০ মাথায় রাখতে হবে।’ যে দলের ইনিংস গড় আড়াই শর সামান্য ওপরে, হুট করে তাদের পক্ষে তিনশোর্ধ্ব টার্গেট ধরে এগিয়ে যাওয়া কতটা সম্ভব—একটু সংশয় তো থাকেই। মাশরাফির মনে অবশ্য সেসব আর নেই, ‘আয়ারল্যান্ডে প্রায় একই রকম কন্ডিশন ছিল। সেখানে কিন্তু আমরা প্রতি ম্যাচেই তিন শ করার অবস্থায় ছিলাম। এখানে (ইংল্যান্ডে) আরো সহজ ব্যাটিং করা। পরিকল্পনা করে এগোলেই সম্ভব।’

সে পরিকল্পনায় ঢুকে গেছে টি-টোয়েন্টির রসায়নও। ‘আপনি যদি ৩০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৮০ রানের মতো করেন এবং এরপর শেষ ২০ ওভারকে টি-টোয়েন্টি মনে করে খেলেন, তাহলেই তো হয়ে যায়’, এরপর অঙ্ক করে বুঝিয়ে দিলেন মাশরাফি, ‘১৮০ এবং শেষ ২০ ওভারে হাতে উইকেট থাকলে ১৭০ রান করাও সম্ভব।’ তাতেই তিন শ ছাড়িয়ে বহুদূর যাওয়া সম্ভব।

তবে এ তো গাণিতিক সম্ভাবনা। মাঠে সেটি ধরে এগোনো কতটা সম্ভব? ভরসার জায়গাই বা কতটুকু? সেটিও আছে। আয়ারল্যান্ডে টপ আর মিডল অর্ডার মিলে যা করেছে, সেটির ধারাবাহিকতা যদি বিশ্বকাপের মাঠেও থাকে, তাহলে অধিনায়কের পরিকল্পনাকে কল্পনা মনে হওয়ার কোনো কারণ নেই। টপ অর্ডারের তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান ফর্মে আছেন। মিডল অর্ডারে মুশফিকুর রহিম, মাহমুদ উল্লাহর ওপর আস্থাহীনতার কোনো কারণ নেই। সাইড স্ট্রোকের জন্য সুখ্যাত মোহাম্মদ মিঠুন বিশ্বকাপে বাজিমাত করতে পারবেন বলেই বিশ্বাস মাশরাফির। আর সবশেষ ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ঢাকা লিগের স্টাইলে ব্যাটিং করেছেন মোসাদ্দেক হোসেন। এরপর মেহেদী মিরাজ আর মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের পর দশ নম্বরে মাশরাফি স্বয়ং বলের চেয়ে রান বেশি করার ক্ষমতা রাখেন।সূত্র:কালের কণ্ঠ।

তবে অধিনায়কের চোখ প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানে, ‘আমাদের বড় ইনিংস গড়তে হলে টপ সিক্সকে করতে হবে। সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হলো তারা সবাই ফর্মে আছে।’ তারা সবাই মিলে ইনিংসটাকে ‘ডেথ ওভারে’ নিয়ে এলে পরে শেষের ব্যাটসম্যানরা যদি সময়ের দাবি সামান্যও মেটাতে পারেন, তবে সোয়া তিন শ মোটেও ‘দিল্লি দুরস্ত’ নয় বাংলাদেশের জন্য।

রাজশাহীর সময় ডট কম২৬ মে ২০১৯





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com