সোমবার, ২৪ Jun ২০১৯, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন

বিদ্যুৎচালিত ট্রেনও আসছে

বিদ্যুৎচালিত ট্রেনও আসছে

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : সড়কে চলাচলের বিষয়ে সবার মাঝে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্কুলজীবন থেকেই ট্রাফিক আইন প্রশিক্ষণে গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয় ট্রাফিক রুলের ওপর স্কুলজীবন থেকেই প্রশিক্ষণ প্রদান করা দরকার। তাহলে সকলের মাঝে সচেতনতাটা গড়ে উঠবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে নির্মিত দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতুর উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। এ ছাড়া এ দিন তিনি পৃথক ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে পঞ্চগড়-ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে নতুন আন্তনগর ট্রেন ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ এবং সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্পের আওতায় জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কে কোনাবাড়ী ও চন্দ্রা ফ্লাইওভার, কালিয়াকৈর, দেওহাটা, মির্জাপুর ও ঘারিন্দা আন্ডারপাস এবং কড্ডা-১ সেতু ও বাইমাইল সেতু উদ্বোধন করেন।

তাঁর সরকার নিরাপদ সড়ক আইন ২০১৮ প্রণয়ন করেছে এবং চালকদের বিশ্রামের জন্য মহাসড়কগুলোয় বিশ্রামাগার নির্মাণ করে দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ সময় যানবাহনের চালকসহ সাধারণ জনগণকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। তাঁর সরকার উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে বলেও উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কলেজ বা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে করে কোনো কোমলমতি শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার না হয়। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে আসন্ন ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশের উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সুস্থ হয়ে দেশে ফেরায় তাঁকে দোয়া করার জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি এ সময় তাঁর দল আওয়ামী লীগকে একটি পরিবার বলে উল্লেখ করেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে শুধু রাজনীতিই নয়, আমরা একটা পরিবার। ছোটবেলা থেকে দেখেছি—আমার মা, বাবাকে এবং রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে আমরা একটা পরিবারের মতোই বড় হয়েছি। যখনই কোনো সমস্যা হয় সুখে-দুঃখে আমরা সব সময় সাথি হয়েই চলি।’ এভাবেই যেন এ সংগঠনটি এগিয়ে যেতে পারে সে বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এ কে এম মোজাম্মেল হক এবং কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোয়াসু ইজুমি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব প্রকল্পগুলোর ভিডিও উপস্থাপনার মাধ্যমে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের ১৬ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর উদ্বোধন করেন। যেটি এরই মধ্যে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

ভিডিও কনফারেন্সের অন্যপ্রান্ত কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ে এদিন উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়াসহ অন্য কর্মকর্তারা এবং মুন্সীগঞ্জ প্রান্তে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহা. হারুন অর রশীদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাসসহ অন্য কর্মকর্তারা।

জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওবায়সি করপোরেশন, শিমঝু করপোরেশন, জেএফএফ করপোরেশন ও আইএইচআই ইনফ্রা সিস্টেমস কম্পানি লিমিটেড ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতীর সঙ্গে দ্বিতীয় কাঁচপুর ব্রিজের কাজ শুরু করে।

এই তিনটি সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে আট হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপানের জাইকা ছয় হাজার ৪৩০ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে। ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ৪০০ মিটার দীর্ঘ নতুন কাঁচপুর সেতু, এক হাজার ৭৫০ কোটি ও এক হাজার ৯৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৩০ মিটার মেঘনা ও এক হাজার ৪১০ মিটার গোমতী সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এ দিন প্রধানমন্ত্রী পৃথক ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে পঞ্চগড়-ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে নতুন আন্তনগর ট্রেন ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর ট্রেনটি পঞ্চগড় থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। ওই ট্রেনেই রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম পঞ্চগড় থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ঢাকায় মেট্রো রেল চালুর পর বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা মেট্রো রেল যেমন চালু করতে যাচ্ছি, সেই সঙ্গে আমরা বিদ্যুৎ চালিত ট্রেন, যা একান্তভাবে পরিবেশ বান্ধব, সেই বিদ্যুৎচালিত ট্রেনও চালু করব। আমরা সেভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি দ্বিতীয় মেঘনা সেতু, দ্বিতীয় গোমতী সেতু এবং শীতলক্ষ্যার ওপর দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু নির্মাণে সহযোগিতার জন্য জাপান সরকার এবং এশীয় ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সব দাতাগোষ্ঠীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমি মনে করি আজকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এমন একটা জায়গায় আছে যে সকল দেশের সঙ্গে আমরা একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে যার কাছ থেকে উন্নয়নের সহযোগিতা পাচ্ছি সেটা গ্রহণ করে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে সক্ষম হচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমবার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর জাপানের সহযোগিতায় রূপসা সেতু, পাকশী সেতু, তিস্তা সেতুর কাজ শুরু করি; ভৈরব রেল সেতুর পাশাপাশি সড়ক সেতু করি।’ এ ছাড়া ধরলা সেতু, গাবখান, শিকারপুর, দোয়ারিকা সেতু নির্মাণসহ প্রায় সারা বাংলাদেশে যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পিত কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করেন বলে উল্লেখ করেন।

তিনি এ সময় রেলের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন থেকে শুরু করে নতুন নতুন রেলপথ সৃষ্টি, নদী ড্রেজিং করে জলপথ সম্প্রসারণ, নতুন রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করে সড়ক পথের সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন বিমানবন্দর নির্মাণ, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণসহ বন্দরের বিমান বহরে নতুন বিমান সংযোজনের মাধ্যমে আকাশপথে যোগাযোগের উন্নয়নে তাঁর সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১০ বছরে তাঁর সরকার চার হাজার ৩৭১ কিমি সড়ক মজবুতকরণ করেছে, পাঁচ হাজার ১৭১ কিমি সড়ক প্রশস্ত করেছে, চার হাজার ৮৬৯ কিমি মহাসড়ক কার্পেটিং ও সিলকোড করা হয়েছে, ৪১৭ কিমি জাতীয় সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত ৮ লেনে উন্নীত করা হয়েছে, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিমি মেরিন ড্রাইভ, ৯১৪টি সেতু, তিন হাজার ৯৭৭টি কালভার্ট নির্মাণসহ পুনর্নির্মাণ করেছি, ঢাকা-টঙ্গী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও ফেনীতে সাতটি ফ্লাইওভার এবং বেশ কিছু আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে।

মেট্রো রেলের নির্মাণকাজ চলার কারণে ঢাকাবাসীর যানজটকবলিত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘ভালোভাবে চলাচলের জন্য আমি বলব এই কষ্টটা একটু আপনাদের সহ্য করতেই হবে। আশা করি, কাজটি হয়ে গেলে আর কষ্ট থাকবে না।’ এ ছাড়া তাঁর সরকার পিপিপির মাধ্যমে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এমআরটির বাস্তবায়ন করছে এবং স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ১০ বছরে ৫২ হাজার ২৮০ কিমি রাস্তা-নির্মাণ, বিপুল পরিমাণ সড়ক ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণ করেছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭৫-এর বিয়োগান্তক অধ্যায় স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতাকে হত্যার ফলে স্বাধীন জাতি হিসেবে বাঙালি জাতির যে মর্যাদা লাভের কথা ছিল এবং দেশটার যে উন্নতি হওয়ার কথা ছিল, যে উন্নতির ভীত জাতির পিতাই রচনা করে গিয়েছিলেন, সেই উন্নতি আর হতে পারেনি। সেটাই হলো আমাদের দুর্ভাগ্য। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের প্রসঙ্গ স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরই বাংলাদেশের মানুষের জীবনে উন্নয়নের ছোঁয়া আমরা পৌঁছে দিতে পেরেছি। যার শুভ ফল পাচ্ছে দেশের জনগণ।’

তিনি নৌকার প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করায় দেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই যে তারা আমাদের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছেন এবং আমাদের ভোট দিয়েছেন, সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন।’ নিজেদের কাজের মধ্য দিয়ে দেশবাসীর জীবনমানের উন্নয়ন তাঁর নিজের এবং দলের প্রধানতম রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দারিদ্র্যের হাত থেকে মানুষকে মুক্ত করা, তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নতি এবং অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে স্বাবলম্বী করাই আমাদের লক্ষ্য।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’-এর উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবার সঙ্গেই বাংলাদেশ বন্ধুত্ব বজায় রেখেছে। ফলে আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো এবং উন্নয়ন সংস্থগুলো দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। দেশের বাইরে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।সূত্র:কালের কণ্ঠ।

তিনি বলেন, ‘সকলের, সর্বোপরি দেশবাসীর সহযোগিতাতেই বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। কারণ বর্তমান বিশ্বটা একটা গ্লোবাল ভিলেজ এবং সকলের সঙ্গেই একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’ সূত্র : বাসস এবং কুমিল্লা, মুন্সীগঞ্জ ও পঞ্চগড় প্রতিনিধি।

রাজশাহীর সময় ডট কম২৬ মে ২০১৯





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com