বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

নীরব মোদীকে গ্রেফতারের জন্য নথি চাওয়া হয়েছিল, উত্তর দেয়নি ভারত, দাবি ব্রিটেনের

নীরব মোদীকে গ্রেফতারের জন্য নথি চাওয়া হয়েছিল, উত্তর দেয়নি ভারত, দাবি ব্রিটেনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গত সপ্তাহেই লন্ডনের রাস্তায় দেখা গিয়েছে হীরে ব্যবসায়ী নীরব মোদীকে। পরনে ছিল ৯ লাখ টাকার জ্যাকেট। ভারত থেকে পালিয়ে বেশ বহাল তবিয়তেই দিন কাটাচ্ছেন তিনি। এমনকী লন্ডনে ফের নতুন করে হীরের ব্যবসা শুরু করেছেন বলেও জানা গিয়েছে। কেন্দ্রের তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে, নীরব মোদীকে দেশে ফেরানোর ও তাঁকে শাস্তি দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু এই দাবির উল্টো দাবি করা হয়েছে ব্রিটিশ প্রশাসনের তরফে। নীরব মোদীকে গ্রেফতার করে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নাকি তৈরি ছিল ব্রিটিশ প্রশাসন। এই সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি চাওয়া হয়েছিল ভারতের কাছে। কিন্তু ভারতের তরফে ব্রিটিশ প্রশাসনের হাতে তা তুলে দেওয়া হয়নি বলেই দাবি করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, গ্রেট ব্রিটেনের একটি আইনি দল নীরব মোদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভারতকে সাহায্য করতে চেয়েছিল। কিন্তু ভারতের তরফে তার নাকি কোনও জবাব দেওয়া হয়নি। লন্ডনের সিরিয়াস ফ্রড অফিসের তরফে জানানো হয়েছে, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথমবার ভারতকে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স ট্রিটি ( এমএলএটি ) পাঠায় ব্রিটেন। কিন্তু কোনও জবাব দেওয়া হয়নি। এই মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স ট্রিটির অর্থ, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক লন্ডনের ভারতীয় দূতাবাসে সরাসরি গ্রেফতারের ওয়ারেন্ট বা কোনও নোটিস পাঠাতে পারবে। দূতাবাস সেই ওয়ারেন্ট বা নোটিস পাঠিয়ে দেবে ব্রিটিশ সরকারের কাছে। তারপরেই ব্যবস্থা নেবে ব্রিটিশ সরকার।

ব্রিটেনের সিরিয়াস ফ্রড অফিস সূত্রে খবর, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে ১৩ হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির পরেই লন্ডনে পালিয়ে যান নীরব মোদী। তার পরেই নাকি ভারতকে জানানো হয়েছিল যে নীরব মোদী লন্ডনে রয়েছেন। শুধু লন্ডনে থাকার কথা জানানোই নয়, ফ্রড অফিসের তরফে ভারতকে জানানো হয়, এই মামলার দায়িত্ব বিখ্যাত আইনজীবী ব্যারি স্ট্যানকোম্বের হাতে দেওয়া হচ্ছে। ব্যারি স্ট্যানকোম্ব টাকা জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় লন্ডনের নামকরা আইনজীবী। জানা গিয়েছে, ব্যারি স্ট্যানকোম্ব নীরব মোদী সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি চেয়ে চিঠি লেখেন। মার্চ মাসে এই চিঠি লেখা হয়েছিল। কিন্তু ভারতের তরফে তার কোনও জবাব দেওয়া হয়নি বলেই দাবি করা হয়েছে। এমনকী তথ্যপ্রমাণের জন্য নাকি ভারতে আসতে চেয়েও চিঠি লিখেছিলেন আইনজীবী। কিন্তু তারও কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি।

জানা গিয়েছে, এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যেই আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার রাস্তা বের করে নেন নীরব মোদী। আর তাই তিনি এখন বহাল তবিয়তে লন্ডনে রয়েছেন। যদিও ব্রিটেনের সিরিয়াস ফ্রড অফিসের করা এই দাবির কোনও উত্তর কেন্দ্রের তরফে দেওয়া হয়নি।

রাজশাহীর সময় ডট কম১২ মার্চ ২০১৯





© All rights reserved © 2018 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com