শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১১:০২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীতে সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোচিং বানিজ্য, সাংবাদিক দেখে পালিয়ে গেলেন শিক্ষক বগুড়ায় বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ নেতার মাতার ইন্তেকাল, মেয়র লিটন ও ডাবলু সরকারের শোক প্রকাশ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন, ডাবলু সরকার আমান সিম সাওতুল কোরআনের ইয়েস কার্ড পেলো রাজশাহীর দুই খুদে ক্বারী রাজশাহী নগরীতে জালিয়াতির মাধ্যমে বিয়ে পড়ানোর অভিযোগ কাজী নুরুলের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুগুলী দেখিয়ে রাজশাহী মহানগরীতে ২টি পুকুর ভরাট (ভিডিও) রাবির লতিফ হলে বঙ্গবন্ধুর রিলিফ ভাস্কর্য উন্মোচন দুর্গাপুরে মাইক্রোবাস উল্টে র‌্যাব সদস্য আহত-৩ রাবিতে জালালাবাদ স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের নেতৃত্বে সূচি-এহসান
সিনেমাকেও হার মানায় নাটোরের প্রতিবন্ধী রিফাতের গল্প

সিনেমাকেও হার মানায় নাটোরের প্রতিবন্ধী রিফাতের গল্প

সিনেমাকেও হার মানায় নাটোরের প্রতিবন্ধী রিফাতের গল্প
নাটোরের প্রতিবন্ধী রিফাত

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি : রিফাত রায়হান (৭)। বাড়ি নাটোরের বড়াইগ্রাম পৌরসভার লক্ষীকোলে। তার জন্মের পরপরই সন্তান প্রতিবন্ধী জেনে মা আত্মহত্যা করেছে, আর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে হয়েছে দেশান্তরী। জন্মের মাত্র তিন মাসের মাথায় বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে শিশু রিফাতের জীবন যেন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৩ সালের জুনে রিফাতের জন্ম। মেয়ের পর ছেলে হওয়ায় স্বজনরা বেশ খুশীই। কিন্তু সে খুশী যে সাময়িক তা ছিল অজানা।
মাত্র আড়াই মাস বয়সে নিউমোনিয়ার কারণে হাসপাতালে নিলে শিশুটি প্রতিবন্ধী হবে বলে স্বজনদের জানান চিকিৎসক।

বিষয়টি কোন ভাবেই মানতে পারেননি রিফাতের মা রিমা খাতুন। খবরটি জেনে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ার এক মাসের মাথায় গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

এ ঘটনার ৩৯ দিনের মাথায় তার পিতা ইব্রাহিম দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কিন্তু সৎমা প্রতিবন্ধী সন্তানকে মেনে নিতে রাজি হয়নি। কয়েকদিন পর দ্বিতীয় স্ত্রীসহ ইব্রাহিম মেয়ে আর প্রতিবন্ধী ছেলেকে ফেলে গোপনে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন। এভাবেই শুধুমাত্র প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেয়ায় পৃথিবীতে সবচেয়ে নির্ভরতার স্থান বাবা-মাকে হারালো রিফাত। এ অবস্থায় রিফাতসহ তার বড় বোনের দায়িত্ব এসে পড়লো বৃদ্ধ দাদা-দাদীর উপর।

এরই মধ্যে বছর খানেক আগে আকস্মিক নিখোঁজ হয়ে গেলো রিফাতের দাদা। বাধ্য হয়ে নাতনী ইশরাত জাহানকে এতিমখানায় দিয়ে দেন দাদী। আর নাতিসহ নিজের আহার জোটাতে বর্তমানে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন বৃদ্ধ দাদী তহুরা বেগম।

বৃহ:বার সরেজমিনে অনলাইন পোর্টাল ‘রাজশাহীর সময় ডট কম’র প্রতিনিধি তহুরা বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান।
সাত বছরের শিশুটির শারীরিক বৃদ্ধি খুবই কম, দুটি পা ও কোমড় যথেষ্ঠ চিকন। ফলে নিজ পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি নেই তার।

মুখে কিছুটা বয়স্ক মানুষের ছাপ,বাক শক্তিহীন শিশুটি সব সময়ই শুয়ে থাকে। কোন কোন সময় নিজেই নিজের হাত-পা কামড়ে রক্তাক্ত করে ফেলে।

ঠিকমত তিন বেলা খাবার না জোটায় শিশুটি ভূগছে চরম পুষ্টিহীনতায়। এ সময় রিফাতের দাদী তহুরা বেগম জানান, এ পর্যন্ত প্রতিবন্ধী বাচ্চা বা নিজে কোন সরকারী ভাতা পাই না। ওষুধপত্র তো দুরের কথা, ঠিকমত তিন বেলা ভাতই জোটাতে পারি না।
মাঝে মাঝে মনে হয় নিজেও আত্মহত্যা করে এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি নেই। কিন্তু আমি মরে গেলে প্রতিবন্ধী নাতিটাকে কে দেখবে এই আশঙ্কায় আত্মহত্যা করতে পারি না।

এ অবস্থায় সমাজের বৃত্তবানরা যদি একটু সহযোগিতার হাত বাড়াতেন তাহলে অসহায় নাতিটাকে চিকিৎসা করানোসহ তার ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে পারতেন।

রাজশাহীর সময় ডট কম১৩ ফেব্রুয়ারী , ২০২০





© All rights reserved © 2020 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com