বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২০, ০৭:২৫ অপরাহ্ন

মেঘনায় মাছের ঝোপে জনদুভোর্গ

মেঘনায় মাছের ঝোপে জনদুভোর্গ

রাজশাহীর সময় ডেস্ক : কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চারপাশে মেঘনা নদীর শাখা প্রশাখায় বাঁশ ও গাছের ডালপালা দিয়ে মাছের ঝোপ তৈরি করে অবৈধ পন্থায় মাছ শিকার করছে কিছু অসাধু মৌসুমি মৎসব্যবসায়ী।প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় অবাধে চালাচ্ছে অবৈধ পন্থায় মৎস শিকার।

সরেজমিনে উপজেলার চারপাশের নদী ঘুরে দেখা গেছে ওমরাকান্দা, রামপুর, পারারবন, সোনাকান্দা, হরিপুর, চালিভাঙ্গা, চন্দনপুর ও তুলাতলিসহ বিভিন্ন এলাকার নদী ও শাখা নদীগুলো দখল করে বাঁশ, গাছের ডালপালা এবং রশি দিয়ে গোলাকার বৃত্ত বানিয়ে কচুরিপানা রেখে মাছের ঝোপ ফেলা হয়েছে দুইশতাধিক।

এসব ঝোপে বিভিন্ন প্রকারের ছোটবড় মাছ, ডিমওয়ালা চিংড়িমাছ ও পোনা মাছেরা আশ্রয় নেয়। কিছুদিন পর বাঁশের ফালা ও মাছ ধরার বিশাল আকৃতির জাল দিয়ে ঝোপের চারদিক ঘিরে ফেলে।

ছোট ছিদ্রযুক্ত জাল দিয়ে ঝোপে আটকাপরা মাছ তুলে আনা হয়। বাদ পরছেনা ছোট পোনা মাছ থেকে শুরু করে জলে থাকা অন্য জলজ প্রাণীও। নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র।

মেঘনা নদীঘেষা উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের তুলাতলি বাজার। এখানে রয়েছে গুরত্বপূর্ণ নৌঘাট। লঞ্চ ও ট্রলার দিয়ে লোকজনের যাতায়াতে প্রধান বাধা হয়ে দারিয়েছে এই অবৈধ মাছের ঝোপ।

স্থানীয় আব্দুল মেম্বার, মোতালেব মিয়াসহ তুলাতলি বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন জানান, এ এলাকায় অসংখ্য মাছের ঝোপের কারণে ঠিকমত লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল করতে পারেনা।

লোকজনের আসা-যাওয়ায় বিলম্ব হওয়ার দরুন বাজারে লোকসমাগম কমে গেছে। গুরুতর অসুস্থ্য রোগী নিয়ে যথা সময়ে পার্শবর্তী সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে না পারায় প্রায়ই পথিমধ্যে রোগীর মৃত্য হয়।

মাছের ঝোপে থাকা বাড়তি ঝামেলা কচুরিপানা। ঝোপে ব্যবহার করা কচুরিপানা শুকনো মৌসুমে নদীর পার ঘেষে কৃষি জমিতে পরে থাকার কারনে কৃষকের কৃষিকাজ ব্যহত হয়।

প্রভাবশলী ব্যক্তিরা ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা খরচ করে এক একটি ঝোপ তৈরে করে তা থেকে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে।

অথচ তাদের কারণে প্রকৃত জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে পারেনা। এলাকাবাসী তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে।

বিশেষ করে স্থানীয় কবির মেম্বারের ঝোপটি নদীর প্রবেশ মুখে থাকায় বেশি সমস্যা হচ্ছে বলে জানায় ভুক্তভোগীরা।

চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার কবির হোসেন জানান, নদীতে আমার একটি ঝোপ আছে, এমন অনেকেরই মাছের ঝোপ রয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের জানা আছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে চন্দনপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান নিজেও একটি বিশাল এলাকা ঘিরে মাছের ঝোপ তৈরি করে রেখেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চন্দনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, উপজেলার সর্বত্র রয়েছে মাছের ঝোপ তাই আমিও একটি ঝোপ দিয়েছি।

এ ব্যপারে উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, আমি এ উপজেলায় কিছুদিন আগে যোগদান করেছি তাই ব্যাপারটি আমার জানা নেই। সূত্র: যুগান্তর।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা পারভীন বলেন, জনদূর্ভোগ তৈরি করে মাছের ঝোপ দিয়ে অবৈধপন্থায় মাছ শিকার করা যাবে না। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাজশাহীর সময় ডট কম ১১ ডিসেম্বর ২০১৯





© All rights reserved © 2020 rajshahirsomoy.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com